জীবননগর রায়পুরে দুই পরিবারের সংঘর্ষে বৃদ্ধা ও বাকপ্রতিবন্ধীসহ আহত ৬, থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

জীবননগর অফিস:

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার রায়পুর বাজারপাড়া এলাকায় পূর্বশত্রুতা ও স্থানীয় একটি জলাশয়কে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী, এক বৃদ্ধাসহ উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি নিয়ে উভয় পক্ষই জীবননগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

থানা সূত্র ও অভিযোগে জানা যায়, রোববার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বাজারপাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে প্রথমে কথাকাটাকাটি হয়, পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

কবির হোসেনের অভিযোগ, একই এলাকার গুচ্ছপাড়ার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান ও জাহিদুল ইসলাম লাঠিসোঁটা ও ধারালো হাসুয়াসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় তার বাকপ্রতিবন্ধী কন্যা তাবাসসুম কেয়াকে এলোপাতাড়ি মারধর ও হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। তাকে রক্ষা করতে গেলে স্ত্রী রোজিনা খাতুন ও বৃদ্ধা শাশুড়ি শিউলি খাতুনও হামলার শিকার হন। পরে খবর পেয়ে বাড়িতে ফিরলে তাকেও কাঠের বাটাম দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অপরদিকে, অপর পক্ষের আব্দুল ওহাব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, রায়পুরের “দোয়া” নামে পরিচিত একটি জলাশয় থেকে কবির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে মাছ ধরে বিক্রি করে আসছেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় কবির হোসেন ও তার লোকজন তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে মারধর করেন। এতে তার স্ত্রী ও পুত্রবধূ গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আহত বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী এবং অপর পক্ষের এক বৃদ্ধার মাথায় গুরুতর আঘাত থাকায় একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে।

ঘটনার পর উভয় পক্ষই জীবননগর থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, “উভয় পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে যার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।