দর্শনায় ঘাসের জমিতে বিষ প্রয়োগ, প্রাণ গেল শতাধিক পাখির

বিশেষ প্রতিবেদক:

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর-মদনা এলাকায় ঘাসের জমিতে কীটনাশক/বিষ প্রয়োগের পর পোকা খেতে গিয়ে শতাধিক দেশীয় পাখির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জমির মালিকের ছেলে রাজনকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রোববার (১৬ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে পারকৃষ্ণপুর-মদনা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহীন আলম। এ সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পাখি মৃত্যুর বিষয়টি যাচাই করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে পারকৃষ্ণপুর-মদনা গ্রামের আতিয়ার রহমানের ঘাসের জমিতে কীটপতঙ্গ দমনের জন্য বিষ বা কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। পরে ওই জমিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় পাখি ঘাসের মধ্যে থাকা পোকামাকড় খেতে গিয়ে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে শুরু করে। শনিবার ও রোববার—দুই দিনে ওই জমি ও আশপাশে শতাধিক পাখির মৃত্যুর ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
বিষ প্রয়োগের ফলে পাখি মারা যাওয়ার খবর স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। পরে রোববার রাত ৮টার দিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহীন আলম ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে পাখি মৃত্যুর কারণ ও বিষ প্রয়োগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে জমির মালিক আতিয়ার রহমানের ছেলে রাজন জমিতে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ-সংক্রান্ত আইনের আওতায় তাকে ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহীন আলম বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষকদের জমিতে কীটনাশক ও বিষ প্রয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার বিষয়ে সচেতন করা হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, কৃষিজমিতে কীটনাশক ব্যবহারের কারণে শুধু ক্ষতিকর পোকামাকড়ই নয়, অনেক সময় খাদ্যের সন্ধানে জমিতে আসা দেশীয় পাখিও বিষক্রিয়ায় মারা যায়। এতে স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তাই ফসল রক্ষার পাশাপাশি পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কৃষকদের আরও সচেতন হওয়া জরুরি।
পরিবেশবিদদের মতে, পাখি কৃষি পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তারা বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে প্রাকৃতিকভাবে ফসল রক্ষায় ভূমিকা রাখে। নির্বিচারে বিষ বা কীটনাশক ব্যবহারের ফলে পাখির সংখ্যা কমে গেলে পরিবেশের ভারসাম্যও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে কৃষিজমিতে কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মাত্রা, সময় ও পদ্ধতি মেনে চলার পাশাপাশি পাখি ও অন্যান্য উপকারী প্রাণীর নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *