জীবননগর অফিস:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে দুস্থ, অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের খাদ্য নিরাপত্তায় সহায়তা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির উদ্যোগে এ মানবিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে জীবননগর ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নির্বাচিত দরিদ্র পরিবারের হাতে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সম্বলিত ‘ফ্যামিলি ফুড প্যাকেট’ তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. শরীফুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোজাফ্ফর রহমান, সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ খায়রুল বাশার এবং দীপ্ত টিভির সিনিয়র সাংবাদিক মো. আদিব জামাল।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাহী সদস্য ও সাংবাদিক সাব্বির সামি মুহিত। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির চুয়াডাঙ্গা শাখার ব্রাঞ্চ ইনচার্জ হোসাইন আহম্মেদ।
কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য প্রস্তুত করা ফ্যামিলি ফুড প্যাকেট বিতরণ করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটে পরিবারের দৈনন্দিন প্রয়োজন বিবেচনায় চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, রসুন, মসলা, আলু, লবণ, চিনি, ছোলা, খেজুর ও মুড়িসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী রাখা হয়।
আয়োজকরা জানান, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্যচাহিদা পূরণে সাময়িক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের প্রতি সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা পৌঁছে দেওয়াই এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশেষ করে আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারগুলোর দৈনন্দিন খাদ্যব্যয়ের চাপ কিছুটা কমাতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়; এটি সামগ্রিকভাবে সমাজের সবার দায়িত্ব। মানবিক সহায়তার মাধ্যমে অসহায় মানুষের জীবনযাত্রায় সামান্য হলেও স্বস্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সহযোগিতার পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখে।
দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে ভবিষ্যতেও বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিয়ে অসহায় মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।