চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান তিন প্রতিষ্ঠানকে ১৩ হাজার টাকা জরিমানা

অবৈধ কসমেটিকস,মূল্য তালিকা ও মেয়াদোত্তীর্ণ বীজ বিক্রির অভিযোগ 
মো: হুমায়ুন কবির:
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় অবৈধ কসমেটিকস বিক্রি, পণ্যের মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ বীজ বিক্রির অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১টা পর্যন্ত আলমডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় খাদ্যপণ্য, কসমেটিকস, বীজসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের বাজারজাত, সংরক্ষণ ও বিক্রয় কার্যক্রম তদারকি করা হয়।
অভিযানকালে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর বিধান অনুযায়ী বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা আরোপ ও তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
জরিমানাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অবৈধ কসমেটিকস বিক্রির দায়ে নাহিদা কসমেটিকস কর্ণার-এর মালিক মোছা. নাহিদা খাতুনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পণ্যের মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় রুবেল ফল ভান্ডার-এর মালিক মো. মতিয়ার রহমানকে ৩ হাজার টাকা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ বীজ বিক্রির দায়ে ইসহাক বীজ ভান্ডার-এর মালিক মো. মাসুদ রানাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এভাবে তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বমোট ১৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
অভিযানকালে ব্যবসায়ীদের পণ্যের মূল্য তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করে ক্রেতাদের দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন, নির্ধারিত ও যৌক্তিক মূল্যে পণ্য বিক্রি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ, মানহীন বা অননুমোদিত পণ্য বাজারজাত ও বিক্রি থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিশেষ করে কসমেটিকস, ওষুধ, বীজ ও শিশুখাদ্যের মতো সংবেদনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে মেয়াদ ও মান যাচাই করে বিক্রির বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান। অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন জেলা বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির বহিরাঙ্গন কর্মকর্তা সালমা জাহান নিপা এবং জেলা পুলিশের একটি দল।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষা, পণ্যের মান ও মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং বাজারে ন্যায্যতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের তদারকি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জনস্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *