চোরাচালান, সন্ত্রাস-নাশকতা, মানব পাচার ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বারোপ
জীবননগর অফিস:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল, সুসংহত ও কার্যকর করতে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি চোরাচালান প্রতিরোধ, সন্ত্রাস ও নাশকতা দমন, মানব পাচার প্রতিরোধ, আদালত সহায়তা এবং সড়ক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১১টায় জীবননগর উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন।
সভায় উপজেলার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম এবং বিভিন্ন দপ্তরের পারস্পরিক সমন্বয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এ উপজেলার চোরাচালান প্রতিরোধে নজরদারি বৃদ্ধি, অনিষ্পন্ন চোরাচালান মামলার অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এছাড়া সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ, মানব পাচার রোধ, আদালত সহায়তা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে চলমান কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়। সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের সঠিক ও নির্ভুল তথ্য সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মাধ্যমে সমন্বিত পরিসংখ্যান প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়। সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকির বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ, ৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক ইমদাদুল হক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফাহমিদা আক্তার রুনা, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জুয়েল শেখ, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান এবং যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাসসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।
এ সময় রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন, সাধারণ সম্পাদক শাহাজাহান খান, জীবননগর পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান কবীর, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন, সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির উপজেলা সমন্বয়ক ইমরান হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।
সভায় বক্তারা বলেন, একটি উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অপরিহার্য। এজন্য অপরাধ সংঘটনের পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধে আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নিয়মিত মনিটরিং, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, চোরাচালান, মাদক, মানব পাচার, সন্ত্রাস ও নাশকতাসহ জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে এমন কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য সরকারি দপ্তরের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় আলোচিত বিষয়গুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নিয়মিতভাবে অগ্রগতি পর্যালোচনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।