পুলিশ ও সাংবাদিক একসাথে, মাদকের বিরুদ্ধে মাঠে-সচেতনতার বার্তা নিয়ে
জীবননগর অফিস:
মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও জোরদার করতে এবার মাঠে নেমেছে পুলিশ ও সাংবাদিকরা। ‘পুলিশ ও সাংবাদিক একসাথে, মাদকের বিরুদ্ধে মাঠে, সচেতনতার বার্তা সবার সাথে’—এই প্রতিপাদ্যে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে অনুষ্ঠিত হয়েছে পুলিশ ও সাংবাদিকদের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। খেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই শেষে জীবননগর প্রেসক্লাব একাদশ ও জীবননগর থানা-পুলিশ একাদশ ১-১ গোলে ড্র করেছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জীবননগর থানা স্টেডিয়ামে জীবননগর প্রেসক্লাবের আয়োজনে এ প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলার মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে জনসচেতনতার বার্তা দেওয়া হয়, অন্যদিকে পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক আরও জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ম্যাচে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খেলায় অংশ নেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান।
এ সময় সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) শেখ মোহাম্মদ নুরুল্লাহ্, জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান শেখ এবং পরিদর্শক (তদন্ত) আতিয়ার রহমান খেলায় অংশগ্রহণ করেন।
জীবননগর প্রেসক্লাবের পক্ষে খেলায় অংশ নেন সভাপতি ফয়সাল মাহাতাব মানিক, সাধারণ সম্পাদক মো. রিপন হোসেনসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
খেলা শুরুর পর থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্ত হয়ে ওঠে উত্তেজনাপূর্ণ। উভয় দলই গোলের জন্য একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে একটি করে গোল করতে সক্ষম হয়।
ফলে ১-১ গোলে সমতায় থেকে শেষ হয় বহুল প্রত্যাশিত প্রীতি ম্যাচটি।
খেলা শেষে বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, খেলাধুলা মানুষের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, “পুলিশ ও সাংবাদিক সমাজের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি মাদকমুক্ত, অপরাধমুক্ত ও সুন্দর সমাজ গঠনে কাজ করতে চাই।”
আয়োজকরা জানান, মাদক প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলা ও সুস্থ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে তাদের মাদক থেকে দূরে রাখা সম্ভব।
তাদের মতে, মাঠের এই প্রীতি ম্যাচের মধ্য দিয়ে পুলিশ ও সাংবাদিকদের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার পাশাপাশি সমাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে—মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
খেলায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জীবননগর পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান কবীর, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. শফিউদ্দিন শফি, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির ইকবাল ঠান্ডু, জীবননগর উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব কামরুল ইসলাম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবু তালেবসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
প্রীতি ফুটবল ম্যাচকে ঘিরে জীবননগর থানা স্টেডিয়ামে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মাঠে উপস্থিত দর্শকরা দুই দলের খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ শেষে জয়-পরাজয়ের হিসাব ছাড়িয়ে মাদকবিরোধী সচেতনতার বার্তাই হয়ে ওঠে আয়োজনের মূল সাফল্য।