জীবননগরে রাতে অসহায়দের দুয়ারে খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিলেন ওসি-সাংবাদিক

জীবননগর অফিস:
দিনের ব্যস্ততা শেষে রাতের নীরবতায় অসুস্থ, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের খোঁজে বাড়ি বাড়ি ছুটেছেন এক সাংবাদিক ও এক পুলিশ কর্মকর্তা। কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন কিংবা প্রচারের উদ্দেশ্যে নয়, মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে তারা কয়েকটি অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে খাদ্যসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার রাতে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বাঁকা গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় এ মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন সিনিয়র সাংবাদিক সাব্বির সামী মুহিত ও জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলাইমান শেখ।
এ সময় তারা গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ, দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের পারিবারিক অবস্থা, চিকিৎসার প্রয়োজন, আর্থিক সংকট ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের সমস্যার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। পরে প্রয়োজন বিবেচনায় কয়েকটি পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।
সাহায্যপ্রাপ্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, হঠাৎ করে রাতে বাড়িতে এসে তাদের খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রয়োজনের সময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন। তাদের অনেকেরই চিকিৎসা, খাদ্য ও দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে নিয়মিত সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।
সিনিয়র সাংবাদিক সাব্বির সামী মুহিত বলেন, “সমাজে অনেক মানুষ রয়েছেন, যারা অভাব, অসুস্থতা ও নানা সংকটের মধ্যে থাকলেও নিজেদের সমস্যার কথা সহজে কাউকে বলতে পারেন না। তাদের কাছে গিয়ে পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করেছি। সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়াতে পারলে সেটিই আমাদের জন্য বড় পাওয়া। মানুষের কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব।”
জীবননগর থানার ওসি সোলাইমান শেখ বলেন, “পুলিশের দায়িত্ব শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা নয়, মানুষের বিপদে ও প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানোও একটি নৈতিক দায়িত্ব। সরাসরি মানুষের কাছে গেলে তাদের বাস্তব সমস্যাগুলো জানা যায়। সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। সমাজের বিত্তবান ও সক্ষম ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে আরও বেশি মানুষের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব হবে।”
স্থানীয়রা বলেন, সাধারণত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সহায়তায় বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। তবে রাতে কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের খোঁজ নেওয়া এবং তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগটি ব্যতিক্রমী। এতে প্রকৃত অসহায় পরিবারগুলোর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং তাদের প্রয়োজনও কাছ থেকে জানা সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায়দের পাশে দাঁড়ান, তাহলে মানবিক সহায়তার পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব। বিশেষ করে অসুস্থ ও দরিদ্র পরিবারগুলোর জরুরি প্রয়োজন চিহ্নিত করে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া তাদের দুর্ভোগ কিছুটা কমাতে পারে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জীবননগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রিপন হোসেন, আরটিভির জীবননগর উপজেলা প্রতিনিধি ওমর ফারুক, দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির প্রতিনিধি রমজান আলীসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও সামাজিকভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *