মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে
জীবননগর অফিস:
মাদকের ভয়াবহতা ও ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুরে মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে একজন মাদক কারবারি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে ভবিষ্যতে মাদক ব্যবসা ও মাদক-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে দামুড়হুদা মডেল থানাধীন জয়রামপুর চায়ের দোকান মোড়ে জয়রামপুর যুব সমাজ মাদক নির্মূল কমিটির উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণকারী মাদক কারবারিকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়।
পরে তাকে মাদক ব্যবসা ও মাদক-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত থেকে স্বাভাবিক ও সৎ জীবনযাপনের শপথ করানো হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকে ধ্বংস করে না; এর নেতিবাচক প্রভাব পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের ওপরও পড়ে। মাদক নির্মূলে কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয়। মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গাকে মাদকমুক্ত করতে জেলা পুলিশ নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টিতেও গুরুত্ব দিচ্ছে। মাদক ব্যবসা ও মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে যারা মাদক থেকে ফিরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান, তাদের ইতিবাচক উদ্যোগকে উৎসাহিত করা হবে।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শেখ মোহাম্মদ নুরুল্লাহ্, দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল হাসান তনু, চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতে ইসলামীর জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা মো. আজিজুর রহমান, দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মেজবাহ্ উদ্দিন এবং ৬ নম্বর হাউলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. নিজাম উদ্দিন।
সমাবেশে জয়রামপুর যুব সমাজ মাদক নির্মূল কমিটির প্রতিনিধি মো. গোলাম সরোয়ার ছোটন ও মো. ফারুক হোসাইন (বাবু) সভাপতিত্ব করেন। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পুলিশ সদস্য, যুবসমাজ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, এর পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে সচেতনতা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে তরুণ ও
যুবসমাজকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করে খেলাধুলা, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা জরুরি। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ তৈরির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।
সমাবেশের শেষপর্যায়ে উপস্থিত সবাই মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। এ সময় “মাদককে না বলুন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ুন”—এই প্রত্যয়ে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন আরও জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।