১৮ মাস পর নিঝুম হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, অজ্ঞাত লাশ হিসেবে দাফন করা মরদেহ-ই নিঝুমের

আবু সাইদ শওকত আলী,ঝিনাইদহ:

দীর্ঘ ১৮ মাস পর ঝিনাইদহের মহেশপুরে কিশোরী নিঝুম খাতুন (১৭) অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। মহেশপুর থানা পুলিশ ও ঝিনাইদহ জেলা সাইবার ইনভেস্টিগেশন সেলের যৌথ অভিযানে এ মামলার প্রধান আসামি মাশরিকুল রহমান জিমকে (১৯) গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন জিম। পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।

পুলিশ ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মার্চ ২০২৫ মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের তাসলিমা খাতুনের মেয়ে নিঝুম খাতুন নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় প্রথমে মহেশপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। দীর্ঘদিন নিঝুমের সন্ধান না পাওয়ায় তার মা বাদী হয়ে মাশরিকুল রহমান জিমকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭/৩০ ধারায় মহেশপুর থানায় অপহরণ মামলা করেন। মামলাটির এফআইআর নম্বর ৩১, তারিখ ৮ মে ২০২৫; জিআর নম্বর ৩৭৫।

মামলা হওয়ার পর নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করে মহেশপুর থানা পুলিশ। পরবর্তীতে ঝিনাইদহ জেলা সাইবার ইনভেস্টিগেশন সেলের প্রযুক্তিগত সহায়তায় তদন্তের অগ্রগতি হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) হিমানিষ বিশ্বাসের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামি মাশরিকুল রহমান জিমকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, আদালতের অনুমতি নিয়ে জিমকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি নিঝুমকে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিম ও নিঝুমের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ১৩ মার্চ ২০২৫ ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে জিম নিঝুমকে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী রেলস্টেশন এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে বিয়ে নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জিম নিঝুমকে থাপ্পড় মারলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন বলে জিম পুলিশের কাছে দাবি করেন। এরপর তাকে পার্শ্ববর্তী নির্জন জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে নিঝুমের ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা এবং মরদেহ গোপন করার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার কয়েক দিন পর ১৭ মার্চ ২০২৫ ঈশ্বরদী থানা পুলিশ পাকশী এলাকার একটি স্থান থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় মরদেহটি আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের সহায়তায় বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়।

গ্রেফতার জিমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহেশপুর থানা পুলিশ ও জেলা সাইবার ইনভেস্টিগেশন সেলের সদস্যরা তাকে সঙ্গে নিয়ে ঈশ্বরদীর পাকশী এলাকায় যান। সেখানে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত মরদেহটি নিঝুম খাতুনের বলে শনাক্ত করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ গ্রেফতারকৃত মাশরিকুল রহমান জিমকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি বিচারকের খাস কামরায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাসান জানিয়েছে, অপরাধ দমনে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশ দৃঢ়ভাবে কাজ করছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *