আবু সাইদ শওকত আলী,ঝিনাইদহ:
তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও ক্ষতিকর মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার মাঠমুখী করার লক্ষ্যে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও ফুটবল বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় উপজেলার হিঙ্গারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে হিঙ্গারপাড়া যুব সমাজের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে সার্বিক সহযোগিতা করে স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন হিউম্যানিটেরিয়ান ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন ও ইঞ্জিনিয়ার আবুল খায়ের মিয়া স্মৃতি স্পোর্টিং ক্লাব।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন হিউম্যানিটেরিয়ান ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের সভাপতি, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী মো. হামিদ পারভেজ মিয়া। সভাপতিত্ব করেন হিঙ্গারপাড়া ফুটবল টুর্নামেন্টের সভাপতি মো. বাবলুর রহমান। মূল আয়োজকের দায়িত্বে ছিলেন প্রবাসী ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. আবু বক্কর বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিঙ্গারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও রিশখালী দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান (লালটু), ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আলমগীর হোসেন, বিএনপির সাবেক ছাত্রনেতা ও হরিণাকুণ্ডু থানা কমিটির সদস্য মো. আনিছুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর ওয়ার্ড সভাপতি মো. জিয়াউর রহমান, সাবেক ইউপি সদস্য মো. ফারুক হোসেন, বিএনপি সদস্য মো. তমসেল আলী মন্ডল, ছাত্রনেতা মো. একরামুল হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও যুবসমাজের নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. হামিদ পারভেজ মিয়া বলেন, “মাদক একটি জীবনকে ধ্বংস করে, আর অতিরিক্ত মোবাইল আসক্তি একটি পুরো প্রজন্মের মেধা ও ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। তরুণদের এই আসক্তি থেকে বাঁচাতে তাদের আবার খেলার মাঠে ফিরিয়ে আনতে হবে।”

বক্তারা বলেন, শিক্ষা ও খেলাধুলার সমন্বয়ের মাধ্যমে সুস্থ ও আদর্শ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব। তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে নিয়মিত ক্রীড়া চর্চার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।
পরে ‘মাদক ও মোবাইল আসক্তিকে বলুন না, খেলার মাঠে চলো সবাই হ্যাঁ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে স্থানীয় যুবসমাজের মাঝে ফুটবল বিতরণ করা হয়। প্রধান অতিথির হাত থেকে ফুটবল গ্রহণ করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও যুবসমাজের প্রতিনিধিরা।
ফুটবল হাতে পেয়ে স্থানীয় তরুণরা নিয়মিত খেলাধুলায় অংশ নেওয়া, মাদক থেকে দূরে থাকা এবং ক্ষতিকর মোবাইল আসক্তি পরিহার করে সুস্থ জীবন গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।