মেরুদণ্ড সোজা করে কাজ করুন’ ডিসির সঙ্গে ফোনালাপ ভাইরালের পর ছাত্রদল নেতা রাফি বহিষ্কার

আবু সাইদ শওকত আলী,ঝিনাইদহ:

ঝিনাইদহে সার ডিলার নিয়োগে বেপরোয়া বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. নোমান হোসেন প্রিন্সের সঙ্গে টেলিফোনে কড়া বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়া ছাত্রদল নেতা মো. রফিকুল ইসলাম রাফিকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ তাঁকে শনিবার রাতে তাকে বহিস্কার করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ফোনালাপে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সদ্য বহিষ্কৃত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রাফিকে জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের প্রশাসকের বিরুদ্ধে সরাসরি সারের অনৈতিক ব্যবসার অভিযোগ তুলতে শোনা যায়। তিনি ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ প্রশাসক এম এ মজিদের নাম উল্লেখ করে বলেন, সারের ডিলারশিপ বণ্টন নিয়ে মোটা অঙ্কের লেনদেন হয়েছে।

ফোনালাপে ডিসিকে রাফি বলেন, “কোন ডিলারের কাছ থেকে কে কত টাকা নিয়েছেন এবং কার অ্যাকাউন্টে সেই টাকা ঢুকেছে, তার যাবতীয় প্রমাণাদি প্রধানমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রীর দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হবে। আমি কোন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারি তা হয়তো আপনার জানা নেই। আপনি কারও ক্রীড়নক না হয়ে মেরুদণ্ড সোজা করে কাজ করুন।

”ফোনালাপটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পরই কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে রফিকুল ইসলাম রাফিকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব ধরনের সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো। সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির ২৬ সেপ্টেম্বর (২০২৬) এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।  

এদিকে বহিষ্কারের আদেশের পর ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে ছাত্রনেতা রফিকুল ইসলাম রাফি বলেন, “ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদ প্রশাসকের অন্যায়, দুর্নীতি ও অবৈধ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াই আমার অপরাধ। এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে বহিষ্কারের আগে কেন্দ্রীয় কমিটি আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেয়নি, এমনকি ন্যূনতম কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়নি। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ও এই অন্যায় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ আমি করেই যাব।”

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *