ভারতে বসে শেখ হাসিনার গোপন জুম বৈঠক গোয়েন্দা ব্যর্থতায় তোলপাড়

আবু সাইদ শওকত আলী,ঝিনাইদহ:

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও একাধিক রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি এড়িয়ে ভারতের মাটি থেকে সরাসরি ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী এক গোপন ভার্চ্যুয়াল জুম বৈঠক সম্পন্ন করেছেন গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

বৈঠকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে সাবেক এমপি প্রয়াত আব্দুল মান্নানের স্ত্রী শামীম আরা মান্নান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আইয়ূব হোসেনের নাম ঘোষণা করেন।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল ৩টা থেকে শুরু হওয়া এই অনলাইন বৈঠকে কালীগঞ্জ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা পর্যায়ক্রমে অংশ নেন। তবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত এই জুম বৈঠকের কোনো তথ্যই ছিল না স্থানীয় কিংবা জেলা গোয়েন্দা দপ্তরের কাছে।

দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা এই গোপন প্ল্যাটফর্মে রাষ্ট্র বা সরকারবিরোধী কী কী কৌশলগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, সে বিষয়ে গোয়েন্দাদের আগাম কোনো তথ্য না থাকা বা ট্র্যাকিংয়ে ব্যর্থ হওয়া নিয়ে প্রশাসন ও সুশীল সমাজে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। 

বৈঠকে অংশ নেওয়া কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সভানেত্রী শেখ হাসিনা তৃণমূল পর্যায়ে দলকে পুনর্গঠিত ও সুসংগঠিত করার কঠোর বার্তা দিয়েছেন।

নির্দেশনায় তিনি বলেন, গ্রামে গ্রামে সাধারণ মানুষের দ্বারে পৌঁছে বর্তমান সরকারের নানা সংকট তুলে ধরতে বেলেছেন। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ-গ্যাস বিপর্যয় ও চরম সার সংকটের বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারের নির্দেশ দেন তিনি। বৈঠকে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে নির্দিষ্ট ৩ জন করে প্রতিনিধি ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পান।

দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকের বিষয়টি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট রিগান, মোস্তাক আহম্মেদ লাভলু এবং আলাল হোসেনসহ স্থানীয় বেশ কয়েকজন আওয়ামী নেতা তাঁদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এসংক্রান্ত পোস্ট শেয়ার করলে বিষয়টি জনসমক্ষে আসে।

ফেসবুকে বার্তা ছড়িয়ে পড়ার পর জেলাজুড়ে হুলস্থুল পড়ে গেলেও পুরো বিষয়ে অন্ধকারে ছিল জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও নজরদারির এমন চরম শিথিলতা এবং গোয়েন্দা ব্যর্থতা নিয়ে নানামুখী প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে রাতে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার (এসপি) মিঞা মোহাম্মদ আশিস বিন হাছানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি অজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, এ ধরনের কোনো রাজনৈতিক জুম বৈঠক কিংবা গোপন সমাবেশের তথ্য তাঁদের জানা নেই।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ন্ত্রণের এই চক্রান্ত গোয়েন্দা নজরদারির কঙ্কালসার চিত্রকেই ফুটিয়ে তুলেছে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *