অপুদাস,ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহ শহরের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ঐতিহাসিক নবগঙ্গা নদী দীর্ঘদিনের অবহেলা, দখল ও দূষণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এরই মধ্যে নদীর বিস্তীর্ণ অংশ ঘন কচুরিপানায় ঢেকে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশ। কোথাও কোথাও নদীর পানির ওপর সামান্য ফাঁকা জায়গাও দেখা যাচ্ছে না। এতে নদীনির্ভর মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
নদীর এমন করুণ পরিস্থিতি দেখে ব্যক্তিগত উদ্যোগে শুক্রবার কচুরিপানা পরিষ্কারে নেমেছেন ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মো. আব্দুল মজিদ বিশ্বাস। কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই নিজ উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে তিনি নবগঙ্গা নদীতে নেমে কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন।
নিজের এই উদ্যোগ সম্পর্কে আব্দুল মজিদ বিশ্বাস বলেন, “শৈশব থেকে আজ ৫৭ বছর বয়স পর্যন্ত এই নদীর সঙ্গে আমার আত্মিক সম্পর্ক। দীর্ঘদিন ধরে আশা করেছিলাম, নদীটিকে রক্ষায় কেউ না কেউ এগিয়ে আসবেন। কিন্তু তেমন উদ্যোগ না দেখে শেষ পর্যন্ত নিজেই কাজে নেমে পড়েছি।”
তিনি আরও বলেন, সামনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজা অনুষ্ঠিত হবে। নদীতে বিপুল পরিমাণ কচুরিপানা থাকায় প্রতিমা বিসর্জনে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি নিজ খরচে কচুরিপানা পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন। গত বছরও ব্যক্তিগত উদ্যোগে নবগঙ্গা নদীর কচুরিপানা পরিষ্কার করেছিলেন বলে জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় নবগঙ্গা নদী ছিল শহরবাসীর জীবন-জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নদীতে নৌযান চলাচলসহ নানা কাজে এর ওপর নির্ভরশীল ছিল মানুষ। কিন্তু দীর্ঘদিনের অবহেলায় নদীটির স্বাভাবিক পরিবেশ অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে। মজিদ বিশ্বাসের মতো ব্যক্তিগত উদ্যোগ নদী রক্ষায় অন্যদেরও উৎসাহিত করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, নবগঙ্গা নদীর বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শুধু ব্যক্তিগত উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। নদী রক্ষায় প্রয়োজন সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগের পাশাপাশি কার্যকর সরকারি পদক্ষেপ। তবে মজিদ বিশ্বাসের নিজ হাতে নদীতে নেমে কচুরিপানা পরিষ্কারের উদ্যোগ নদী ও পরিবেশ রক্ষায় একটি ইতিবাচক সামাজিক বার্তা দিচ্ছে।