চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মেহেদী শাহরিয়ারের সঙ্গে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও ঐক্য ফ্রন্ট এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও পূজা উদযাপন ফ্রন্টের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার নেতৃবৃন্দের পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার উপস্থিত বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পরিচিত হন এবং জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নিরাপত্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
সভায় পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গায় সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও উৎসবকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্র
দান করবে।
মতবিনিময়কালে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ জেলার বিভিন্ন এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে পুলিশ সুপারকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও পূজা-পার্বণকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
পুলিশ সুপার নেতৃবৃন্দের বক্তব্য ও মতামত শোনেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। তিনি যেকোনো ধরনের গুজব, উসকানি বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং কোনো বিষয়ে সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার পরামর্শ দেন।
সভায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও ঐক্য ফ্রন্ট, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও পূজা উদযাপন ফ্রন্টের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে জেলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখা এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সব শ্রেণি-পেশা ও ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।