মহেশপুরে শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে সবজি ধান ও কলা বাগানের ব্যাপক ক্ষতি

অপুদাস,ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড়, স্বরুপপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মঙ্গলবার রাতের অল্প সময়ের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কৃষকের মাসের পর মাসের শ্রম ও বিনিয়োগে গড়ে তোলা সবজি ক্ষেত, ধান ও কলাবাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঝড়ের তাণ্ডবে বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদের শিমের মাচা ভেঙে মাটিতে পড়ে গেছে। অনেক জায়গায় লাউয়ের মাচা উপড়ে ও ভেঙে গেছে। কোথাও কোথাও পুরো সবজি ক্ষেতই নষ্ট হয়েছে। শিম, বরবটি, লাউসহ মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করা বিভিন্ন ধরনের সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

কৃষকেরা জানান, জমিতে বাঁশ, জাল ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে যত্ন করে তৈরি করা হয়েছিল সবজির মাচা। ফসল ধরতে শুরু করায় কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছিল আশার আলো। কিন্তু রাতের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে মাচাগুলো ভেঙে পড়ায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

শুধু সবজি নয়, ঝড়ের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ধানের ক্ষেতও। বিভিন্ন এলাকায় পাকা ও আধাপাকা ধানগাছ মাটিতে নুয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও পুরো ধানক্ষেতই লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এতে ধান চাষিরাও ফলন কমে যাওয়া এবং আর্থিক লোকসানের আশঙ্কা করছেন।

এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় কলাগাছ ভেঙে ও উপড়ে পড়েছে। শিলাবৃষ্টিতে বিভিন্ন ফসলের পাতা, ফুল ও ফল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে চলতি মৌসুমে কৃষকেরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভালো ফলনের আশায় চলতি মৌসুমে তারা জমিতে বিপুল অর্থ ও শ্রম বিনিয়োগ করেছিলেন। অনেকে ধার-দেনা করে বীজ, সার, কীটনাশক, বাঁশ, জালসহ মাচা তৈরির উপকরণ কিনেছেন। ফসল বিক্রি করে বিনিয়োগের টাকা ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে সেই প্রত্যাশায় বড় ধাক্কা লেগেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তালিকা তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। সহজ শর্তে কৃষিঋণের ব্যবস্থা করা হলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবেন।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে হঠাৎ করে ফসলের ক্ষতি হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা দ্রুত সরকারি সহায়তার মাধ্যমে তাদের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *