আবু সাইদ শওকত আলী,ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির স্কুল বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন সংগঠনটির ঝিনাইদহ জেলা শাখার সভাপতি ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম জেলা সমন্বয়ক ছাত্রনেতা শারমিন সুলতানা। গত ৭ অক্টোবর ২০২৬, ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে অনুষ্ঠিত সংগঠনটির ষষ্ঠ কেন্দ্রীয় সম্মেলনে নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটিতে তাঁকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়।
শারমিন সুলতানা দীর্ঘদিন ধরে ঝিনাইদহ জেলায় সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাংগঠনিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। জেলা শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষার বৈষম্য দূরীকরণ এবং গণতান্ত্রিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। এ ছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ঝিনাইদহ জেলার অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
২০১৫ সালে এসএসসি পাসের পর রাজনৈতিক পথচলা শুরু
শারমিন সুলতানা ২০১৫ সালে এসএসসি পাস করার পর সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সঙ্গে যুক্ত হন। তাঁর রাজনৈতিক পথচলার সূচনা হয় শিক্ষাকে মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার মধ্য দিয়ে। তাঁর মতে, অর্থনৈতিক সামর্থ্যের ভিত্তিতে শিক্ষার সুযোগ নির্ধারিত হওয়া একটি বৈষম্যমূলক বাস্তবতা। ‘টাকা যার, শিক্ষা তার’—এমন পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং সবার জন্য শিক্ষার সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই তাঁর রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অন্যতম ভিত্তি।
দীর্ঘ ১১ বছরের রাজনৈতিক পথচলায় তিনি ছাত্ররাজনীতিকে কেবল শিক্ষার্থীদের তাৎক্ষণিক দাবি আদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, বিজ্ঞানভিত্তিক ও অসাম্প্রদায়িক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর সংগ্রামের অংশ হিসেবে দেখেছেন।
শারমিন সুলতানার রাজনৈতিক দর্শনে শিক্ষা, কৃষি, শিল্প, শ্রম ও জাতীয় সম্পদের প্রশ্ন পরস্পর সম্পর্কিত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, উৎপাদন ও সম্পদের ওপর মুষ্টিমেয় মানুষের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত থাকলে সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের অধিকার ও মর্যাদা উপেক্ষিত হয়। এ কারণে শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে শ্রমিক-কৃষকসহ মেহনতি মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায় এবং জাতীয় সম্পদ রক্ষার সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
আদর্শনিষ্ঠ ছাত্ররাজনীতির অঙ্গীকার
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা থেকে শারমিন সুলতানা মনে করেন, ছাত্ররাজনীতির মূল লক্ষ্য ক্ষমতার কাছাকাছি যাওয়া কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি নয়; বরং শোষিত-বঞ্চিত মানুষের পক্ষে দাঁড়ানো, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুক্তচিন্তা, যুক্তিবাদ, বিজ্ঞানমনস্কতা ও সংগ্রামী চেতনার বিকাশ ঘটানো।
তিনি মনে করেন, প্রচলিত সুবিধাবাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিপরীতে আদর্শনিষ্ঠ, আপসহীন ও গণমুখী ছাত্ররাজনীতির চর্চা কঠিন হলেও এ ধারাকে এগিয়ে নেওয়া জরুরি। তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাস—ব্যক্তির চেয়ে আদর্শ বড়, পদের চেয়ে দায়িত্ব বড় এবং ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে মানুষের মুক্তির সংগ্রাম অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কোনো পদ, প্রাপ্তি কিংবা ব্যক্তিস্বার্থের বিনিময়ে আদর্শ বিসর্জন দেওয়া যায় না বলেও মনে করেন তিনি।
নতুন দায়িত্বে স্কুলশিক্ষার সংকট নিয়ে কাজের প্রত্যয়
কেন্দ্রীয় কমিটির স্কুল বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে নতুন দায়িত্ব পাওয়াকে নিছক সাংগঠনিক পদ হিসেবে দেখছেন না শারমিন সুলতানা। তাঁর কাছে এটি নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রগতিশীল, বিজ্ঞানমনস্ক, যুক্তিবাদী ও মানবিক চেতনার বিকাশ ঘটানোর পাশাপাশি স্কুলশিক্ষার সংকট নিয়ে আরও সুসংগঠিতভাবে কাজ করার রাজনৈতিক দায়িত্ব।
এ দায়িত্ব পালনে আরও গভীর তাত্ত্বিক অধ্যয়ন, বাস্তব অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, আত্মসমালোচনার মানসিকতা এবং জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। বিশেষ করে স্কুলশিক্ষার্থীদের অধিকার, শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ, শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্য দূরীকরণ এবং গণতান্ত্রিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও সর্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
শারমিন সুলতানার বিশ্বাস, ছাত্রসমাজের মুক্তি শ্রমিকের মুক্তি, কৃষকের মুক্তি কিংবা নারীর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। তাই শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইকে বৃহত্তর গণসংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত করে শোষণ, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ায় সংগঠনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শারমিন সুলতানা আদর্শনিষ্ঠ রাজনৈতিক সংগ্রাম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তাঁর এই অর্জনে ঝিনাইদহের ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে।
শারমিন সুলতানার রাজনৈতিক অঙ্গীকার—ব্যক্তিগত সাফল্যের পরিবর্তে মানুষের মুক্তি, ক্ষমতার সিঁড়ি হিসেবে রাজনীতির ব্যবহার নয় বরং শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং সুবিধাবাদের পরিবর্তে আদর্শনিষ্ঠ সংগ্রামকে এগিয়ে নেওয়া। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের পতাকাতলে শিক্ষার অধিকার, গণতন্ত্র, সাম্য ও সামাজিক মুক্তির আন্দোলন আরও বেগবান করার প্রত্যয় নিয়েই তিনি নতুন দায়িত্ব পালনে এগিয়ে যেতে চান