বিশেষ প্রতিবেদক:
ভারত থেকে বাংলাদেশ সরকারের ক্রয় করা ১৮টি ব্রডগেজ রেলকোচ চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে দর্শনা থানাধীন জয়নগর চেকপোস্ট দিয়ে কোচগুলো দেশে প্রবেশ করে। পরে দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলস্টেশনে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে কোচগুলো নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় নেওয়া হবে। সেখানে কোচগুলোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের ক্রয় করা এসব রেলকোচের মধ্যে রয়েছে ১১টি নন-এসি শোভন চেয়ার কার, তিনটি এসি চেয়ার কার, দুটি এসি স্লিপার কার এবং দুটি এসি পাওয়ার কার। সব মিলিয়ে ১৮টি কোচের এই চালানে যাত্রী পরিবহনের বিভিন্ন শ্রেণির কোচের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ-সংশ্লিষ্ট পাওয়ার কারও রয়েছে।
সূত্র জানায়, গত ১২ অক্টোবর ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালায় অবস্থিত রেলকোচ ফ্যাক্টরি থেকে কোচগুলো বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। পরে সেগুলো পশ্চিমবঙ্গের রানাঘাট রেলস্টেশনে অবস্থান করছিল। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে কোচগুলো রানাঘাট স্টেশন থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টা ৪০ মিনিট পর দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে সেগুলো চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
বাংলাদেশে প্রবেশের পর কোচগুলো দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলস্টেশনে নেওয়া হয়। সেখানে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার পর কোচগুলো সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। কারখানাটিতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কোচগুলোর অবস্থা ও কারিগরি দিক যাচাই করা হবে।
রেলওয়ে খাতে নতুন কোচ সংযোজন যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রেলসেবার মানোন্নয়নের উদ্যোগের অংশ হতে পারে। তবে এই ১৮টি কোচ কোন রুটে চলাচল করবে, কবে থেকে যাত্রী পরিবহনে যুক্ত হবে এবং এগুলো ব্যবহারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী—তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
উল্লেখ্য, ভারত থেকে আমদানি করা রেলকোচ বাংলাদেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে দর্শনা সীমান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলপথ। এ পথে কোচগুলোর প্রবেশের পর কাস্টমস-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা ও কারিগরি পরীক্ষা সম্পন্ন করে পরবর্তী গন্তব্যে পাঠানো হয়।