জীবননগর নতুনপাড়া মেদিনীপুর ও দর্শনা নিমতলা সীমান্তে ৫৮ বিজিবির সাঁড়াশি অভিযান:ভারতীয় মদ,কাশির সিরাপ,ওষুধ ও কীটনাশক জব্দ

ছয়টি পৃথক অভিযানে উদ্ধার ৪৮ বোতল মদ, ২০৬ বোতল ভারতীয় কাশির সিরাপ, ২ হাজার ৬১০ পিস ওষুধ ও ৪৯ প্যাকেট কীটনাশক; আটক হয়নি কেউ

জীবননগর অফিস:

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী অভিযান জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এরই ধারাবাহিকতায় মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)-এর অধীনস্থ দর্শনা নিমতলা,নতুনপাড়া ও মেদিনীপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় গত ১৭ ও ১৮ অক্টোবর পরিচালিত ৬ টি পৃথক অভিযানে ভারতীয় মদ,বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কাশির সিরাপ,ওষুধ ও কীটনাশক জব্দ করা হয়েছে। এসব অভিযানে কোনো আসামিকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সীমান্ত পিলারের কাছাকাছি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন মাঠ, কলাক্ষেত ও আমবাগানে অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় এসব মালামাল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৪৮ বোতল ভারতীয় মদ, ২০৬ বোতল ভারতীয় কাশির সিরাপ, ২ হাজার ৬১০ পিস ওষুধ এবং ৪৯ প্যাকেট ভারতীয় কীটনাশক।

নিমতলা বিওপির অভিযানে ভারতীয় মদ উদ্ধার:

১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ ভোর ৪.১৫ মিনিটে মহেশপুর ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ দর্শনা নিমতলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সীমান্ত পিলার ৭৩/৩-এস থেকে আনুমানিক ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিংনগর গ্রামের হালদারপাড়া মাঠে মো. মোমিনের কলাক্ষেতের মধ্যে অভিযান চালানো হয়। হাবিলদার মো. সায়াদ হোসাইনের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে ৪৮ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়। তবে ঘটনাস্থলে কোনো ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি।

নতুনপাড়া বিওপিতে এক দিনে দুই দফা অভিযান:

১৮ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জীবননগর উপজেলার নতুনপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় আরেকটি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বিজিবি। সীমান্ত পিলার ৬৫/এমপি থেকে আনুমানিক ১৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নতুনপাড়া গ্রামের দলিল মিয়ার আমবাগান থেকে ৩৪ বোতল ভারতীয় WINCEREX Cough Syrup উদ্ধার করা হয়। নায়েব সুবেদার মো. শরীফ উদ্দিনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

এর আগের দিন,১৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬.৪৫ মিনিটে একই বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত পিলার ৬৫-এমপি থেকে প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নতুনপাড়া গ্রামের আল-তারেখের আমবাগানে অভিযান চালানো হয়। নায়েব সুবেদার মো. শরীফ উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে আরও ১৩৬ বোতল ভারতীয় WINCEREX Cough Syrup উদ্ধার করা হয়।

অন্যদিকে,১৭ অক্টোবর বিকেল ৫.৫০ মিনিটে সীমান্ত পিলার ৬৫/২-এস থেকে প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নতুনপাড়া গ্রামের ফরমাল মণ্ডলের বাগানবাড়ির পেছনের পশ্চিম পাশে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ৩৬ বোতল ভারতীয় Escuf Cough Syrup উদ্ধার করা হয়। নতুনপাড়া বিওপির এসব পৃথক অভিযানে সর্বমোট ২০৬ বোতল

ভারতীয় কাশির সিরাপ জব্দ করা হয়েছে।

চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ২ হাজার ৬১০ পিস ওষুধ উদ্ধার:

১৭ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক ৫.৫০ মিনিটে জীবননগর উপজেলার নতুনপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পরিচালিত পৃথক চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ২ হাজার ৬১০ পিস ওষুধ উদ্ধার করা হয়।

সীমান্ত পিলার ৬৫/২-এস থেকে আনুমানিক ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নতুনপাড়া গ্রামের ফরমাল মণ্ডলের বাগানবাড়ির পেছনের পশ্চিম পাশ থেকে এসব ওষুধ উদ্ধার করেন নায়েব সুবেদার মো. শরীফ উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন বিজিবি সদস্যরা। তবে উদ্ধার করা ওষুধের নাম, ধরন ও আনুমানিক বাজারমূল্য সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।

মেদিনীপুর বিওপিতে ৪৯ প্যাকেট ভারতীয় কীটনাশক জব্দ:

১৭ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ১৫ মিনিটে মহেশপুর ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ মেদিনীপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সীমান্ত পিলার ৬৩/১-এস থেকে আনুমানিক ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে হরিহরনগর গ্রামের তোতা মিয়ার আমবাগানে নায়েক মো. সেলিম রেজার নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ৪৯ প্যাকেট ভারতীয় কীটনাশক উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায়ও কোনো ব্যক্তিকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

ছয়টি অভিযানে উদ্ধারকৃত মালামালের হিসাব:

মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী,ছয়টি পৃথক অভিযানে উদ্ধার করা মালামালের পরিমাণ হলো-ভারতীয় মদ ৪৮ বোতল ইউনরেক্স সিরা ১৭০ বোতল,এসকাফ সিরাপ ৩৬ বোতল,বিভিন্ন ধরনের ওষুধ দুই হাজার ৬১০ পিস এবং

ভারতীয় কীটনাশক ৪৯ প্যাকেট।

সীমান্তে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত:

মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)-এর অধীনস্থ বিভিন্ন বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে এসব মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ পণ্য পরিবহন ও পাচার প্রতিরোধে বিজিবির নজরদারি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অভিযানগুলো পরিচালিত হয়।

উদ্ধারকৃত মালামালের পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা,বর্তমান বাজার মূল্য এবং সংশ্লিষ্ট চোরাচালান চক্রের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য বিজিবির দেয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।

মহেশপুর ব্যাটালিয়ন(৫৮ বিজিবি)-এর সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান এসব অভিযানের তথ্য এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *