দত্তক নেয়া নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সাংবাদিককে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আইনজীবীর বিরুদ্ধে
আবু সাইদ শওকত আলী, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহ জেলা জজ আদালত চত্বরে ১০ থেকে ১২ দিন বয়সী এক নবজাতক কন্যাশিশুকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে হস্তান্তরের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিশুটির মা ও অপর এক নারীকে নবজাতকসহ থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। তবে শিশুটিকে দত্তক নেওয়া, চিকিৎসার খরচ বহন এবং অর্থ লেনদেনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহের সময় এক সাংবাদিককে বাধা দেওয়া ও ক্যামেরা বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে।
সোমবার দুপুরে আদালত চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। আটক দুই নারী হলেন শৈলকূপা উপজেলার দিগনগর ইউনিয়নের সিদ্ধি মতনেজা গ্রামের সবুজ বিশ্বাসের স্ত্রী ফারজানা খাতুন এবং একই উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রামের মুকুল হোসেনের স্ত্রী বিউটি খাতুন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নবজাতককে এক লাখ টাকার বিনিময়ে হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে ওই দুই নারী আদালত এলাকায় এসেছেন—এমন অভিযোগ ওঠে। তাঁদের কথাবার্তা ও আচরণে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে খবর পেয়ে ঝিনাইদহ সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নবজাতকসহ দুই নারীকে থানায় নিয়ে যায়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত মুকুল নামের এক ব্যক্তি দাবি করেন, নবজাতককে দত্তক নেওয়ার বিষয়ে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে হলফনামা সম্পন্ন করতে অ্যাডভোকেট খায়ের তাঁদের আদালতে আসতে বলেছিলেন। তবে আইনজীবী খায়েরের দাবি, ফারজানা তাঁর স্বামীকে তালাক দেওয়ার জন্য আদালতে এসেছিলেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
শিশুটির বাবা সবুজ বিশ্বাস দাবি করেন, স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ বহন করার সামর্থ্য তাঁর ছিল না। এ কারণে মুকুল ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের আলোচনা হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দম্পতি চিকিৎসার খরচ বহন করেন এবং নবজাতককে দত্তক নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছিল। তবে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ তিনি তাঁর স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির পরিবারের ওপর তুলেছেন। স্বামী-স্ত্রীর কথোপকথনের একটি কল রেকর্ডে অর্থ লেনদেন নিয়ে আলোচনা রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে ওই রেকর্ডের সত্যতা এবং প্রকৃতপক্ষে অর্থ লেনদেন হয়েছিল কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, সংবাদ সংগ্রহের সময় অ্যাডভোকেট খায়ের নামের ওই আইনজীবী সাংবাদিককে বাধা দেন এবং ক্যামেরা বন্ধ করার উদ্যোগ নেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে আইনজীবীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঝিনাইদহ সদর থানা থেকে নবজাতক ও তার মা ফারজানাকে ফারজানার বাবার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পারিবারিক বিরোধ মিটিয়ে নেওয়ার জন্য শিশুটির বাবা সবুজকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।