ঝিনাইদহে রাশেদ খানের অভিযোগ ‘এনসিপি ল্যাপটপ-ছাগল চোরদের দল, জামায়াত অপরাধীদের পুনর্বাসন কেন্দ্র’

আবু সাইদ শওকত আলী,ঝিনাইদহ:

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, “এনসিপি বর্তমানে ল্যাপটপ চোর, ছাগল চোর ও নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের দল। অন্যদিকে জামায়াত আওয়ামী লীগের অপরাধীদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।”

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে ঝিনাইদহ সার্কিট হাউসে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ খান অভিযোগ করেন, জামায়াতের আমিরের বক্তব্যের সঙ্গে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার বক্তব্যের মিল রয়েছে। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে, আর জামায়াত সেই ষড়যন্ত্রের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। এর ফলে আওয়ামী লীগ দেশে অরাজকতা সৃষ্টির সুযোগ পেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে এনসিপি ও বিরোধী পক্ষের বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করে রাশেদ খান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি। রাজনৈতিক ও সাংবিধানিকভাবে তাঁকে মোকাবিলা করতে না পেরে বিরোধীরা বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিংয়ের মতো বিভিন্ন ইস্যুতে তাঁকে জড়ানোর চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

শেখ হাসিনা সরকারের আমলের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিজেই গুমের শিকার হয়েছিলেন এবং তৎকালীন সরকারের অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তাঁর দাবি, সে সময় জামায়াতের নেতাদের এ ধরনের প্রতিবাদে তেমনভাবে দেখা যায়নি।

এনসিপির নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে রাশেদ খান বলেন, দলটির কয়েকজন নেতা ল্যাপটপ চুরি, ছাগল চুরি, নারী কেলেঙ্কারি, ডিসি নিয়োগে তদবির, থানায় চাঁদাবাজদের ছাড়িয়ে নেওয়া এবং সাবেক সংসদ সদস্যের বাসায় সমন্বয়ক পরিচয়ে চাঁদাবাজির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদে যুক্ত করা প্রয়োজন।

এনসিপি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে দাবি করে তিনি বলেন, দলটির নীতি ও অবস্থান জামায়াতের প্রভাবাধীন হয়ে পড়েছে। ভবিষ্যতে এনসিপির রাজনৈতিক অস্তিত্ব জামায়াতের মধ্যে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে রাশেদ খান অভিযোগ করেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমের মতো ব্যক্তিরা গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ব্যর্থ করার জন্য আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করেছেন। তাঁর দাবি, আন্দোলনকারীদের একসময় ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে গালি দেওয়া ব্যক্তিরাই এখন জামায়াতের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন।

জামায়াতের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দলটি ক্ষমা প্রার্থনার অজুহাতে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাকর্মী ও সুযোগসন্ধানীদের আশ্রয় দিচ্ছে। তাঁর মতে, এর ফলে আওয়ামী লীগের অপরাধের বিচার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ঝিনাইদহের উন্নয়ন প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, জেলার বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে ডিও লেটার জমা দিয়েছেন। এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে উদ্বোধন করা অসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো চালুর ব্যাপারে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঝিনাইদহে অন্তত সাতটি সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেগুলো বেগম খালেদা জিয়ার আমলে উদ্বোধন করা হলেও এখনো অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে।

ঝিনাইদহ সার্কিট হাউসে আয়োজিত ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলার কর্মরত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *