বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর অধিকাংশে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি, নতুন নেতৃত্বের দাবি জোরালো

বিশেষ প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর অঙ্গ ও সহযোগী মোট ১১টি সংগঠনের মধ্যে ১০টির কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। বিভিন্ন সংগঠনে দীর্ঘদিন ধরে নতুন কাউন্সিল বা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন না হওয়ায় নেতৃত্বে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে দ্রুত নতুন নেতৃত্ব গঠন এখন সময়ের দাবি।

বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে—জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, কৃষক দল, তাঁতীদল, মৎস্যজীবী দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, জাসাস ও ওলামা দল। সহযোগী সংগঠন হিসেবে রয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও শ্রমিক দল। তবে এসব সংগঠনের বেশ কয়েকটির পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্র এখনো প্রণয়ন হয়নি; বিশেষ করে প্রায় ৪৭ বছরেও ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্র না হওয়া একটি বড় সাংগঠনিক দুর্বলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিএনপির অন্যতম প্রধান অঙ্গসংগঠন যুবদলের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, কৃষক দল, মহিলা দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, তাঁতীদল, জাসাস, শ্রমিক দল ও মৎস্যজীবী দলের কমিটিও মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

কৃষক দলের তিন বছর মেয়াদি কমিটির মেয়াদ প্রায় দেড় বছর আগে শেষ হয়েছে। ছাত্রদলের সর্বশেষ কমিটির মেয়াদও ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সংগঠনটির দুর্বল পারফরম্যান্স পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।

মহিলা দলের ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিন ধরে একই কমিটি বহাল রয়েছে, যদিও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর কাউন্সিল হওয়ার কথা। একই ধরনের চিত্র দেখা যায় মুক্তিযোদ্ধা দল ও শ্রমিক দলেও—যেখানে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নতুন কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়নি।

মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পর এখনো নতুন কমিটি গঠন করা হয়নি। সংগঠনটির নেতাদের দাবি, বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার পরও সাংগঠনিক কাঠামো পূর্ণাঙ্গ না থাকায় কার্যক্রমে গতি আনতে সমস্যা হচ্ছে।

এদিকে জাসাসের কার্যক্রমও সীমিত পরিসরে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্ধারিত সময় অতিক্রম করলেও তাদের আহ্বায়ক কমিটি এখনো বহাল রয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়া এবং একই নেতৃত্ব বহাল থাকায় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রেই পদবঞ্চিত কর্মীরা সংগঠন থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ মনে করেন, সময়মতো নতুন কমিটি গঠন না হওয়ায় একদিকে সংগঠনের কার্যকারিতা কমছে, অন্যদিকে নতুন নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দ্রুত অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো পুনর্গঠন করা হলে দল সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হবে এবং নির্বাচনী প্রস্তুতিও আরও কার্যকর হবে বলে তারা মনে করছেন।

এদিকে নতুন নেতৃত্বে আসতে আগ্রহীদের মধ্যে তৎপরতা ইতোমধ্যে বেড়েছে। পদপ্রত্যাশীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অবদানের বিষয়টি তুলে ধরতে সক্রিয় রয়েছেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *