বিশেষ প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশের দ্রুত অভিযানে গ্রেফতার হওয়া ৬ আসামীকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের রিমান্ড আবেদন প্রস্তুত করছে পুলিশ।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সাতগাড়ী এলাকার এক নারীকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ফাঁদে ফেলে আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর এলাকার একটি নির্জন আমবাগানে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কবিতা (৩০) নামে এক নারী কৌশলে ভিকটিমকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যায় এবং পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী অন্যান্য আসামীদের সাথে যোগাযোগ করে।
গত ২৫ মার্চ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে প্রধান আসামীদের সহায়তায় আদম ও মিজান পালাক্রমে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এসময় অন্যান্য আসামীরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ভিকটিমকে জিম্মি করে রাখে। ঘটনার পর ভিকটিমকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিষয়টি গোপন রাখতে চাপ প্রয়োগ করা হয়।
পরবর্তীতে ভিকটিম অসুস্থ হয়ে পড়লে তার স্বামীর কাছে পুরো ঘটনা প্রকাশ পায়। এরপর ভিকটিম বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৯(৩)/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৩৪, তারিখ: ২৮ মার্চ ২০২৬)।
ঘটনার পরপরই চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা ও আলমডাঙ্গা থানার যৌথ পুলিশ দল অভিযান চালিয়ে শনিবার ভোর ৪টার দিকে ৬ জন আসামীকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মিজান (৩৪), সামাদ আলী (২৫), আদম (৩৪), শাহজাহান (৪৫), আব্দুস সালাম (২৬) এবং কবিতা (৩০)।
পুলিশ জানায়, ভিকটিমের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আলামত সংগ্রহের কাজও সম্পন্ন হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে কাজ করছে পুলিশ।
এ ঘটনায় জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তি শনাক্ত হলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।