শ্রমিক সংকট ও যন্ত্রের অভাবে বিপর্যস্ত গৌরীপুরের কৃষক পানিতে পচে নষ্ট পাকা ধান, ‘বিনামূল্যেও নিচ্ছে না কেউ’

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:-

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার কৃষকেরা চলতি বোরো মৌসুমে চরম সংকটে পড়েছেন। তীব্র শ্রমিক সংকট, ধান কাটার যন্ত্রের অভাব এবং টানা বৃষ্টির কারণে নিচু এলাকার বিস্তীর্ণ জমির পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে পচে নষ্ট হচ্ছে। অনেক কৃষক বিনামূল্যেও ধান কেটে নিয়ে যেতে বললেও কোনো সাড়া পাচ্ছেন না।

সোমবার (১১ মে) সকালে উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের বিভিন্ন বিল ঘুরে এমন হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। কেইলা বিল, মরিচালী বিল, মামদীপুর, দরুন লালমা, ছোট-বড় ডৌহাখলা, বাঁশাটি, গণিতাশ্রম, কাজীর পানাটি, আহসানপুর, কলাদিয়া ও রুকুন্দীপুরসহ বিস্তীর্ণ নিচু এলাকার অধিকাংশ ধান পানির নিচে ডুবে গেছে। অন্যদিকে উঁচু জমির ধান কাটতেও শ্রমিক ও কৃষিযন্ত্রের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

মরিচালী গ্রামের কৃষক আজিজুল হক বলেন,“আমার এক একর ২০ শতাংশ জমির ধান এলাকার মানুষকে কেটে নিয়ে যেতে বলেছি; কিন্তু কেউ বিনামূল্যেও নিতে চায় না।”

আহসানপুর গ্রামের কৃষক আবুল হাসিম বলেন,“আমাদের খোঁজ নেওয়ার কেউ নেই। ধান পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব, সেটাই বড় চিন্তা।”

স্বপ্ন ডৌহাখলা গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, এখনো কৃষি বিভাগের কোনো কর্মকর্তা মাঠে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের খোঁজ নেননি। একই অভিযোগ করেন মরিচালী গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক।

এদিকে মরিচালী গ্রামের মনোয়ারা খাতুন জানান, তার স্বামীর এক একর জমির ধান পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পরিবারের অন্য সদস্যদের জমির ফসলও একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন জলি জানান, ঝড়ো আবহাওয়া ও অতিবৃষ্টির কারণে উপজেলার প্রায় ৫ হাজার ১০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বোরো ধানের ৫৫০ হেক্টর জমির ফসলের মধ্যে ১৮০ হেক্টর সম্পূর্ণ নষ্ট এবং ৩৭০ হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৬ কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, অতিবৃষ্টিতে ৫০ হেক্টর জমির শাকসবজিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ হেক্টরের ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে। সব মিলিয়ে উপজেলায় ১ হাজার ৩০৯ মেট্রিক টন ধান এবং ৬৪৬ মেট্রিক টন শাকসবজি নষ্ট হয়েছে। শাকসবজি খাতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ৬১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, দ্রুত সরকারি সহায়তা, পর্যাপ্ত কৃষিযন্ত্র সরবরাহ, স্বল্পসুদে কৃষিঋণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা না করলে এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *