জীবননগর অফিস:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের কয়া গ্রামে প্রকাশ্যে মাদক সেবনের প্রতিবাদ করায় নাজমুল হাসান (৩০) নামে এক যুবককে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ ভর্তি করা হয়েছে।
আহত নাজমুল হাসান কয়া উত্তরপাড়ার বাসিন্দা ও আসাদুল ইসলামের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়া গ্রামের মেহের আলীর ছেলে জুম্মাত আলী (৩৫) গ্রামের একটি আমবাগানে বসে প্রকাশ্যে মাদক সেবন করছিলেন। এ সময় খেলতে খেলতে সেখানে চলে যায় নাজমুলের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে রাফিন। অভিযোগ রয়েছে, শিশুটির উপস্থিতিতে বিরক্ত হয়ে জুম্মাত আলী তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। পরে কান্নাকাটি করতে করতে রাফিন বাড়িতে ফিরে গেলে বিষয়টি জানতে পারেন তার বাবা নাজমুল হাসান।
ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে নাজমুল ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুকে মারধরের কারণ জানতে চান এবং প্রকাশ্যে মাদক সেবনের বিরোধিতা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জুম্মাত আলী তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
পরবর্তীতে শুক্রবার (২২ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে জুম্মাত আলী পুনরায় একই গ্রামের মামুন (৩০), লালটু (৩০), রিকতাউল (৩২) ও খালিদ (২৫)-কে সঙ্গে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ নাজমুলের বাড়িতে যান। সেখান থেকে তাকে ডেকে নিয়ে আবারও বেধড়ক মারপিট করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
মারধরের ঘটনায় গুরুতর আহত নাজমুলকে স্বজনরা উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাজমুল হাসান বলেন,
“কয়া গ্রামের ওই আমবাগানে নিয়মিত প্রকাশ্যে মাদক সেবন করা হয়। এতে এলাকার যুব সমাজ ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। ভয়ের কারণে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। আমার ছোট ছেলে সেখানে খেলতে গেলে তাকে মারধর করা হয়। আমি প্রতিবাদ করায় আমাকে নির্মমভাবে পেটানো হয়েছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল প্রকাশ্যে মাদক সেবন বন্ধ ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে জীবননগর থানা-র অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, “ঘটনার বিষয়ে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।