বিশেষ প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার হোগলডাঙ্গা মাঝেরপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে ৪৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আব্দুল হালিম (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ। এ সময় তার স্ত্রীসহ আরও ২ থেকে ৩ জন সহযোগী পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত আব্দুল হালিম হোগলডাঙ্গা গ্রামের মাঝেরপাড়া এলাকার মৃত মোহামাদ আলীর ছেলে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দামুড়হুদা মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিনের নির্দেশনায় গত রোববার (৭ জুন) রাত প্রায় ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হোগলডাঙ্গা মাঝেরপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় আব্দুল হালিমকে তার বাড়ির উঠান থেকে আটক করা হয়। তবে তার স্ত্রী আফরোজা খাতুন (৩৫) এবং আরও কয়েকজন সহযোগী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে আব্দুল হালিমের দেহ তল্লাশি করে তার পরিহিত লুঙ্গির ডান পাশের কোচা থেকে ৪৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার মোট ওজন ৪ দশমিক ৫ গ্রাম এবং এর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ টাকা।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি স্বীকার করেছেন যে, পলাতক সহযোগীরা এর আগেও ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিল। পরে ঘটনাস্থলেই জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয় এবং তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে আব্দুল হালিম ও তার স্ত্রী আফরোজা খাতুনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকা থেকে ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদক সংগ্রহ করে নিজ এলাকা ও আশপাশে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।
দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেসবাহ উদ্দিন বলেন, “গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের অংশ হিসেবে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।