স্টাফ রিপোর্টার:
চুয়াডাঙ্গা জেলার বহুল আলোচিত দুটি হত্যা মামলা এবং একটি ডাকাতি মামলার রহস্য উদঘাটন, পলাতক আসামি গ্রেপ্তার, গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার এবং তদন্তে পেশাদারিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ জেলা পুলিশের একদল কর্মকর্তা ও সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
জুন-২০২৬ মাসের মাসিক কল্যাণ সভায় চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এ সময় তিনি অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের নিষ্ঠা, সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জেলার তিনটি আলোচিত মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেন।
প্রথম ঘটনায়, আলমডাঙ্গা উপজেলার চিলাভালকি এলাকায় মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে অপহরণের পর কিশোর রাফিজ মিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যার মামলার প্রধান আসামি লাল্টুকে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি উদ্ধার করা হয়। পরে তিনি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পুলিশ জানায়, আসামির বিরুদ্ধে এর আগেও দুটি হত্যা মামলার অভিযোগ রয়েছে এবং তিনি একসময় চরমপন্থী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
দ্বিতীয় ঘটনায়, জীবননগর উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের আলোচিত ববিতা খাতুন পিংকি হত্যা মামলার দীর্ঘদিনের পলাতক একমাত্র আসামি রাজনকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মৃত্যুকালীন জবানবন্দির সূত্র ধরে পরিচালিত অভিযানে তাকে আটক করা হয়। পরে তিনি আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেন।
এ ছাড়া, জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া এলাকায় পূর্বাশা পরিবহনে সংঘটিত আলোচিত ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া লক্ষাধিক টাকার মোবাইল ফোন উদ্ধার এবং ডাকাত দলের সদস্য হুসাইন বিশ্বাস পলাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি ডাকাতির ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জনগণের জানমাল রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত রহস্য উদঘাটন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তারা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। পুলিশ সুপার বলেন, এমন স্বীকৃতি পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে আরও উৎসাহিত করবে এবং জনসেবায় তাদের কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি করবে।