জীবননগর অফিস:
‘মাদককে না বলি, মাদক ছেড়ে খেলা ধরি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়ায় অনুষ্ঠিত ৮ দলীয় আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা সম্পন্ন হয়েছে। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনালে হাসাদাহ ইউনিয়ন ফুটবল একাদশকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্বাগতিক আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন ফুটবল একাদশ।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় আন্দুলবাড়ীয়া বাজারসংলগ্ন আন্দুলবাড়ীয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ফুটবল মাঠে আন্দুলবাড়ীয়া ফ্রেন্ডস্ ক্লাবের উদ্যোগে এ ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
খেলার শুরু থেকেই উভয় দল আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। ম্যাচের ৫ মিনিটের মাথায় স্বাগতিক আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন ফুটবল একাদশ ১-০ গোলে এগিয়ে যায়। ১৫ মিনিটে হাসাদাহ ইউনিয়ন ফুটবল একাদশ গোল করে খেলায় সমতা ফেরায়। প্রথমার্ধ ১-১ গোলে শেষ হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে চলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। নির্ধারিত সময়ে উভয় দল আরও একটি করে গোল করলে ২-২ গোলে সমতায় শেষ হয় ম্যাচ। ফলে খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ৪-৩ গোলে জয় নিশ্চিত করে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি ঘরে তোলে স্বাগতিক আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন ফুটবল একাদশ। দলের পক্ষে জয়সূচক গোল করেন ৯ নম্বর জার্সিধারী তরুণ খেলোয়াড় রাব্বী। দলটির নেতৃত্ব দেন অধিনায়ক শেখ শামীম।
ফাইনালে ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন ফুটবল একাদশের তরুণ গোলরক্ষক রায়হান আরাফাত সোহান। এছাড়া পুরো টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতা ও হ্যাটট্রিক করা খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হন আন্দুলবাড়ীয়া দলের অধিনায়ক শেখ শামীম।
ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার সৌজন্য হিসেবে প্রদান করেন আন্দুলবাড়ীয়া বাজারের ব্যবসায়ী ও মেসার্স মোল্লা জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী মোল্লা জুয়েল।
খেলা শেষে বিজয়ী দলের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি ও ১০ হাজার টাকা এবং রানার্সআপ দলের হাতে ট্রফি ও ৬ হাজার টাকা প্রাইজমানি তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া দুই দলের খেলোয়াড়দের প্রত্যেককে একটি করে মেডেল দেওয়া হয়। সেরা ২০ জন দর্শকের হাতেও পৃথক পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন জীবননগর থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিয়ার রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আতিয়ার রহমান, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির হারুন অর-রশিদ, আন্দুলবাড়ীয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম মামুন, সিনিয়র সাংবাদিক নারায়ণ ভৌমিক, সাংবাদিক আলামিন ও খন্দকার আবুল বাসার।
এ সময় এবি টেলিভিশনের শেখ রাশেদুজ্জামান রাশেদ, রানা বিডি ফেসবুক পেজের রানা মাহমুদ, মোল্লা জুয়েল,
হাসাদাহ ইউনিয়ন ফুটবল একাদশের টিম ম্যানেজার ও সাবেক গোলরক্ষক জসীম উদ্দীন জসি, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন ফুটবল একাদশের টিম ম্যানেজার মোল্লা মকছেদুর রহমান টিক্কাসহ আয়োজক কমিটি ও ফ্রেন্ডস্ ক্লাবের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
খেলায় প্রধান রেফারির দায়িত্ব পালন করেন ইসমাইল হোসেন। সহকারী রেফারি ছিলেন টুটুল হোসেন ও রানা হোসেন। ধারাভাষ্য দেন জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার আব্দুল্লাহ আল-মামুন (মামুন নিরব)।
হাজারো ফুটবলপ্রেমী দর্শকের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় আয়োজিত এ টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা এবং মাদক থেকে দূরে রাখার আহ্বান জানানো হয়।