আবু সাইদ শওকত আলী,বিশেষ প্রতিনিধি:
গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বর্বর হামলার প্রতিবাদে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় যুব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সুন্দরবন স্টুডেন্ট সলিডারিটি টিম (এসএসএসটি)এর উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শত শত মানুষ অংশ নেন।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) জুমার নামাজ শেষে উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের কলবাড়ী বাজার জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে কলবাড়ী বাজার প্রদক্ষিণ করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। মানবিক ব্যক্তিদের সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রায় তিন শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
প্রতিবাদী শ্লোগানে মুখরিত সমাবেশ
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা “ফ্রি ফ্রি প্যালেস্টাইন—স্টপ জেনোসাইড”, “নেতানিয়াহুর দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে”, “বয়কট বয়কট—ইসরায়েলি পণ্য বয়কট”, “স্বৈরাচার নিপাত যাক—ফিলিস্তিন মুক্তি পাক”, এবং “ফ্রম দ্য রিভার টু দ্য সি—প্যালেস্টাইন উইল বি ফ্রি” ইত্যাদি শ্লোগানে প্রকম্পিত করেন কলবাড়ী বাজার এলাকা।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও বক্তাদের বক্তব্য
সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন পরিবেশকর্মী ও যুব জলবায়ু কর্মী স.ম. ওসমান গনী সোহাগ। এসময় উপস্থিত ছিলেন—
- মোঃ ওবায়দুল্লাহ আল মামুন, সহ-সভাপতি, সুন্দরবন স্টুডেন্ট সলিডারিটি টিম (বুড়িগোয়ালিনী ইউনিট)
- মোঃ শরিফুল ইসলাম, আহ্বায়ক, কলবাড়ী বাজার ঈদগাহ কমিটি
- মোঃ খলিলুর রহমান, যুব বিষয়ক সম্পাদক, ইসলামী যুব আন্দোলন, শ্যামনগর উপজেলা শাখা
- মোঃ মারুফ হোসেন মিলন, সাবেক সভাপতি, শ্যামনগর অনলাইন নিউজ ক্লাব
- এস. এম. নুরুল আলম, সভাপতি, সরদার চ্যারিটি ফাউন্ডেশন
- মোঃ আশিকুর রহমান, ছাত্রনেতা
- মোঃ নাঈম ইসলাম ও ইমরান হোসেন, কলবাড়ী স্পোর্টস ফ্যামিলি
বক্তব্যে ফিলিস্তিনের অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশার চিত্র
সমাবেশে এনজিও কর্মী মোঃ মাসুদুর রহমান বলেন,
“ইসরায়েলি আগ্রাসন ফিলিস্তিনকে একটি উন্মুক্ত কারাগারে পরিণত করেছে। সেখানে নারী, শিশু, বৃদ্ধ—নিরীহ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে। এই মানবতাবিরোধী অপরাধ বন্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”
সুন্দরবন স্টুডেন্ট সলিডারিটি টিম-এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ সবুজ বিল্লাহ বলেন,
“ফিলিস্তিনের অবস্থা আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়, অথচ বিশ্ব বিবেক যেন নির্বিকার। কথিত সভ্য বিশ্ব মানবাধিকারের কথা বললেও ফিলিস্তিনের পক্ষে দাঁড়ায় না।”
শ্যামনগর কেন্দ্রীয় কামিল মাদরাসার শিক্ষার্থী হাফেজ জাকির হোসেন বলেন,
“যদি এই নিপীড়ন চলতে থাকে, তবে কয়েক দশকের মধ্যেই ফিলিস্তিন বিশ্ব মানচিত্র থেকে মুছে যেতে পারে। আমরা ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়েছি, এবং এই আন্দোলন চলবে।”
ত্রিপাণী বিদ্যাপিঠের সহকারী শিক্ষক মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,
“ইসরায়েলি বাহিনী বছরের পর বছর ধরে ফিলিস্তিনিদের ওপর নিষ্ঠুর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। এই নিপীড়নের বিরুদ্ধে বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত
সমাবেশ শেষে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা জয়নুল আবেদীন, সমন্বয়কারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ (বুড়িগোয়ালিনী ইউনিট) ও খতিব, কলবাড়ী বাজার জামে মসজিদ।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে শ্যামনগরের মানুষ ফিলিস্তিনের প্রতি তাদের সংহতি প্রকাশ করেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে ইসরায়েলের বর্বরতা বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।