আবু সাইদ শওকত আলী,বিশেষ প্রতিনিধি:-
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ছোট ভাটপাড়া গ্রামে জন্ম নেওয়া টুটুল দাসের উপরে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। টুটুল দাসের জন্মদাতা পরিবার দাবি করছে,বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির প্রভাবে টুটুল দাস তাদের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেছে এবং জালিয়াতি করে টাকা ঘুষের মাধ্যমে নতুন জন্মসনদ তৈরি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছোট ভাটপাড়া গ্রামের পরিতোস দাসের ছেলে টুটুল দাস পারিবারিক সম্মতিতেই কালীগঞ্জ উপজেলার রায়গ্রামের বলরাম দাসের মেয়েকে বিয়ে করে। বিয়ের কিছুদিন পরই টুটুল দাস শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস শুরু করে। এমতাবস্থায় দীর্ঘ এক বছর ধরে তিনি নিজের বাবা-মায়ের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেনি বলে যে অভিযোগ উঠে, তার সত্যতা এলাকায় বসবাসরত অনেকেরই সাথে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে ।
এদিকে টুটুল দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, বাবার অনুমতি ছাড়াই মাত্র দুই হাজার টাকার বিনিময়ে রায়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নতুন জন্মসনদ তৈরি করেন। জন্মসনদ তৈরির পর জাতীয় পরিচয় পত্রে পিতা-মাতার নামের স্থলে শশুর শাশুড়ি’র নাম দিয়েছে। এরপর শ্বশুরবাড়ির লোকজন টুটুল দাসকে নিজেদের ছেলে হিসেবে দাবি করেন এবং জন্মদাতা পিতা-মাতার সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে ।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জন্মদাতা পিতা পরিতোস দাস বলেন,আমার ছেলের জাতীয় পরিচয় পত্রে আমাদের নামের পরিবর্তে তার শ্বশুর-শাশুড়ির নাম দিয়েছে তাহলে সে কি তার বোন বিয়ে করেছে? পরিতোষ দাস দুঃখ প্রকাশ করে বলেন ছেলে বেঁচে থেকেও তাকে নিজের ছেলে বলে দাবি করতে না পারা আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। দেশে আইন ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও জন্ম সনদে এবং জাতীয় পরিচয় পত্রে পিতা-মাতার নামের পরিবর্তে শ্বশুর-শাশুড়ির নাম কিভাবে হয়! এমন ঘটনা খুব ই দুঃখজনক।”
তিনি এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে কঠিন বিচার দাবি করেছেন যাতে ভবিষ্যতে অন্য কোনো পরিবার এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার না হয়। এমন ঘটনার সুষ্ঠু নিরপেক্ষ বিচার কার্যকর করা না গেলে সমাজের অবক্ষয়ের মাত্রা আরও বাড়বে আর এক সময় পরিলক্ষিত হবে সভ্যতার পূর্ণ ভরাডুবি