আবু সাইদ শওকত আলী,বিশেষ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় শিশুখাদ্যে ক্ষতিকর রং, নিষিদ্ধ ঘন চিনি ও অনুমোদনহীন উপাদানের মিশ্রণের দায়ে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা এবং একটি আইসক্রিম কারখানা সিলগালা করা হয়েছে। আজ সোমবার দিনব্যাপী উপজেলাজুড়ে পরিচালিত এক যৌথ অভিযানে এ ব্যবস্থা নেয় প্রশাসন।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ঝিনাইদহের সহকারী পরিচালক নিশাত মেহের এবং জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার সাধন সরকার। র্যাব-৬-এর একটি চৌকস দল অভিযানে সার্বিক সহায়তা প্রদান করে।
জব্দ ও ধ্বংসকৃত খাদ্যদ্রব্য অভিযান চলাকালীন শৈলকুপার গাড়াগঞ্জ বাজারের ‘তৃপ্তি সুপার আইসবার’ এবং পৌর এলাকার পুরাতন বাজারের ‘সোহেল স্টোর’ থেকে বিপুল পরিমাণ রং মিশ্রিত শিশুখাদ্য, অননুমোদিত কেওড়া ও গোলাপ জল এবং বিএসটিআই-এর অনুমোদনহীন খাবার স্যালাইন জব্দ করা হয়। পরে জনসম্মুখে প্রায় ১০০ প্যাকেট রংযুক্ত চিপস এবং ৬ কার্টন অবৈধ খাবার স্যালাইন ধ্বংস করা হয়। এই অপরাধে প্রতিষ্ঠান দুটিকে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ভয়াবহ চিত্র আইসক্রিম কারখানায় পরবর্তীতে গাড়াগঞ্জ বাজারে তৃপ্তি সুপার আইসবার আইসক্রিম কারখানায় তল্লাশি চালিয়ে আঁতকে ওঠার মতো তথ্য পায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেখানে আইসক্রিম তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছিল মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ঘন চিনি (সোডিয়াম সাইক্ল্যামেট), নিষিদ্ধ টেক্সটাইল রং, স্যাকারিন এবং নোংরা ও ছত্রাকযুক্ত বাদামের গুঁড়া। এছাড়া লেমন আইসক্রিমে সাইট্রিক অ্যাসিড এবং আইসক্রিম ঘন করার জন্য নামহীন এক ধরনের অজ্ঞাত পাউডার ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়।
নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তারা জানান, এসব উপাদান কিডনি, লিভার ও হৃৎপিণ্ডের স্থায়ী ক্ষতিসহ শিশুদের নানাবিধ জটিল রোগ সৃষ্টি করতে পারে।

সিলগালা ও দণ্ড কারখানার ফ্রিজে সংরক্ষিত থাকা প্রায় ৫ হাজার পিস বিষাক্ত আইসক্রিম তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হলেও মালিকপক্ষ তা পরিশোধে ব্যর্থ হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কারখানাটি সিলগালা করে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় যৌথ টিম।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নিশাত মেহের জানান, জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় ভেজাল ও ক্ষতিকর খাদ্যদ্রব্যের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। অভিযানে ভোক্তা অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের স্টাফসহ আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।