আবু সাইদ শওকত আলী,বিশেষ প্রতিনিধি:-
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে আস্থার সুযোগ নিয়ে এক গৃহবধূকে অপহরণ ও রাতভর পাশবিক নির্যাতনের এক লোমহর্ষক অভিযোগ উঠেছে। পৈশাচিক এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ ভুক্তভোগীর স্বামীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে জানা গেছে। পবিত্র সম্পর্কের আড়ালে এমন জঘন্য লালসার শিকার হয়ে ওই গৃহবধূ এখন হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় ছটফট করছেন।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ঘটনার দিন ওই গৃহবধূ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নগরবাথান এলাকায় অবস্থিত তার বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়ি ফিরছিলেন। কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে ওত পেতে থাকা আব্দুল্লাহ তাকে একা পেয়ে গতিরোধ করে। পূর্বপরিচিত ও স্বামীর বন্ধু হওয়ার সুবাদে প্রাথমিক কথাবার্তার এক পর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক একটি নির্জন স্থানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগে প্রকাশ, উপজেলার কাশিপুর এলাকার একটি নিভৃত স্থানে নিয়ে গিয়ে ওই গৃহবধূর ওপর চালানো হয় মধ্যযুগীয় বর্বরতা। ভুক্তভোগীর দাবি, সেখানে তাকে রাতভর আটকে রেখে পালাক্রমে শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করা হয়। পরদিন সকালে বিধ্বস্ত অবস্থায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হলে তিনি কোনোমতে স্বজনদের কাছে পৌঁছান এবং কান্নায় ভেঙে পড়ে পুরো ঘটনা বর্ণনা করেন।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পুরো কালীগঞ্জ এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।নির্যাতিতার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে দ্রুত তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার (মেডিক্যাল টেস্ট) প্রক্রিয়া চলছে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে কালীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আলামত সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ পলাতক রয়েছে।”বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে যে পৈশাচিকতা আব্দুল্লাহ দেখিয়েছে, তার কোনো ক্ষমা নেই। আমরা দ্রুততম সময়ে এই নরপশুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা অভিযোগ পাওয়ামাত্রই তদন্ত শুরু করেছি। ভুক্তভোগীর চিকিৎসার খোঁজখবর রাখা হচ্ছে এবং অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নেমেছে। অপরাধী যেই হোক, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
এলাকাবাসীর দাবি, সামাজিক অবক্ষয়ের এই চরম সীমায় দাঁড়িয়ে দোষীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন দুঃসাহস না দেখায়।