দামুড়হুদায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান

পরিমাপে গড়মিল: ফিলিং স্টেশনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা                                        পেট্রোল বিক্রি সাময়িক বন্ধ

বিশেষ প্রতিনিধি:

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে পেট্রোলের পরিমাপে গড়মিল পাওয়ায় একটি ফিলিং স্টেশনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পেট্রোল ইউনিটের যন্ত্রপাতি যথাযথভাবে মেরামত না করা পর্যন্ত পেট্রোল বিক্রি বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুর ১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন, মুদি দোকান ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বিক্রয়কেন্দ্রে তদারকি কার্যক্রম চালানো হয়।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মেসার্স দামুড়হুদা ফিলিং স্টেশন-এ পেট্রোল সরবরাহ ইউনিট পরীক্ষা করে পরিমাপে অসঙ্গতি পাওয়া যায়। নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ না হওয়ায় বিষয়টি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়। পরে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৭ ধারায় প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. শাহজাহান আলীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান। তিনি জানান,জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রে পরিমাপে কারচুপি ভোক্তাদের সরাসরি আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়। তাই বাজার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও সঠিক পরিমাপ নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন,“কোনো প্রতিষ্ঠান যদি ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করে বা নির্ধারিত মান ও পরিমাপ অনুসরণ না করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

অভিযানে সহযোগিতা করেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) প্রতিনিধি মো. রফিকুল ইসলাম এবং জেলা আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা। অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের সঠিক ওজন ও পরিমাপ বজায় রাখা, মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনার নির্দেশনা দেন।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালিত হলে বাজারে অনিয়ম কমবে এবং সাধারণ ভোক্তারা প্রতারণার হাত থেকে সুরক্ষা পাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *