জীবননগর মনোহরপুরে যুবককে আটকে নির্যাতন ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ

জীবননগর অফিস:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর শিমুলতলাপাড়া গ্রামে এক যুবককে অবৈধভাবে আটকে রেখে নির্যাতন, মারধর, দোকান ভাঙচুর এবং নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ৬ জনের বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগকারী মনোহরপুর শিমুলতলাপাড়ার বাসিন্দা মো. জুয়েল হোসেন (৩১) জানান,গ্রামের নজরুল ইসলাম, তার ছেলে সাইফুল ইসলাম মেজো, শরিফুল ইসলাম, জেসমিন খাতুন, মাছুরা ও পিংকী খাতুনের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং এ কারণে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি
হয়ে আসছে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ মে বুধবার দুপুর প্রায় ২টার দিকে সাইফুল ইসলাম মেজো তার স্ত্রী পিংকী খাতুনকে মারধর করতে করতে গ্রামের আব্দুর রহিমের দোকানের সামনে নিয়ে যান। একপর্যায়ে নিরাপত্তার জন্য পিংকী খাতুন দোকানের ভেতরে আশ্রয় নিলে সাইফুল ইসলাম সেখানে প্রবেশ করে তাকে মারধর অব্যাহত রাখেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ সময় দোকান মালিক আব্দুর রহিম বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয় এবং দোকানের বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর ও তছনছ করে ক্ষয়ক্ষতি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই ঘটনার জের ধরে একই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গ্রামের পুকুরপাড় এলাকা থেকে জুয়েল হোসেনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে একটি বাড়িতে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলে দাবি করেছেন তিনি।

জুয়েল হোসেনের পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধারে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয় এবং কয়েকজন আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। জুয়েল হোসেনের দাবি, মারধরের একপর্যায়ে তার কাছে থাকা মানিব্যাগসহ নগদ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

এছাড়া ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে এবং খুন-জখমসহ নানা ধরনের হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন
তিনি।

ঘটনার বিষয়ে মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য তুহিন হোসেন বলেন, “বিষয়টি স্থানীয়  ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সমাধান না হওয়ায় বিষয়টি থানায় গড়িয়েছে।”

জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা
গ্রহণ করা হবে।”পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *