প্রধান আসামি গ্রেপ্তার উদ্ধার হলো হত্যার আলামত,আদালতে স্বীকারোক্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক,চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে অপহরণের পর ১৫ বছর বয়সী কিশোর মো. রাফিজ মিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় পলাতক প্রধান আসামি মো. লাল্টু মিয়া (৪১)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তার দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, আলমডাঙ্গা উপজেলার চিলাভালকী গ্রামের মোছা. আমেনা খাতুনের নাতি রাফিজ মিয়াকে গত ৫ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মোবাইল ফোনে কৌশলে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়।
একই দিন রাত ১১টার দিকে অপহরণকারীরা রাফিজের পরিবারের সদস্যদের কাছে ফোন করে তার কান্নাজড়িত কণ্ঠ শোনায় এবং ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পাশাপাশি বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে জবাই করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। পরবর্তীতে একাধিকবার ফোন করে মুক্তিপণের টাকা আদায়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়।
এ ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০২৫) এর ৭/৮/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং-১১, তারিখ ১০ জুন ২০২৬)।
চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (CCIC) ও আলমডাঙ্গা থানার যৌথ টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে শুক্রবার (২৬ জুন) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার নলিয়া গ্রামের জামালপুর বাজার রেলস্টেশন এলাকা থেকে প্রধান আসামি লাল্টু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লাল্টু পুলিশকে জানান, রাফিজের বাবা দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকায় তাকে অপহরণ করলে সহজেই মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় করা সম্ভব হবে—এমন পরিকল্পনা করেই তারা অপহরণ করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাফিজকে মোটরসাইকেলে করে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর এলাকার অর্জুন খালের পাশে নিয়ে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করা হয়। পরে তার নিজের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের কাছে ফোন দিয়ে নির্যাতনের শব্দ শোনানো হয় এবং ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
পুলিশ জানায়, মুক্তিপণের টাকা না পাওয়ায় ৫ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে লাল্টুসহ অন্য আসামিরা রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করে রাফিজকে হত্যা করে। এরপর মরদেহ অর্জুন খালে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। হত্যার পরও তারা মোবাইল ফোনে একাধিকবার মুক্তিপণের টাকা দাবি করতে থাকে, যাতে পরিবার বুঝতে না পারে যে রাফিজকে ইতোমধ্যে হত্যা করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়া লাল্টু মিয়ার বিরুদ্ধে এর আগেও দুটি হত্যা মামলার অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর এলাকার লাল ব্রিজ মাঠসংলগ্ন অর্জুন খালের পাশে একটি পুকুর থেকে রাফিজ মিয়ার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আদালতে তিনি দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।