জীবননগর অফিস:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলী রেলস্টেশনে ঢাকা ও রাজশাহীগামী আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন স্থানীয় যাত্রী, এলাকাবাসী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে খুলনাগামী আন্তঃনগর রুপসা এক্সপ্রেস ট্রেন উথলী রেলস্টেশনে কিছু সময় থামিয়ে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা উথলী রেলস্টেশনে ঢাকা ও রাজশাহীগামী আন্তঃনগর ট্রেনের নিয়মিত স্টপেজ চালুর দাবি জানান। এ সময় বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন জীবননগর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ। পরে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উথলী রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
বিক্ষোভকারীরা জানান, উথলী রেলস্টেশনটি জীবননগর উপজেলার একমাত্র চালু রেলস্টেশন। এ স্টেশনকে কেন্দ্র করে জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষও নিয়মিত যাতায়াত করেন। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ স্টেশন ব্যবহার করেন। ফলে স্থানীয়দের যাতায়াতের ক্ষেত্রে উথলী রেলস্টেশনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তাদের দাবি, সম্প্রতি উথলী রেলস্টেশনে নতুন প্ল্যাটফর্ম নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ায় যাত্রীসেবার পরিধি আরও বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকায় এ অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক যাত্রী রেলপথে সরাসরি যাতায়াতের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বক্তারা বলেন, উথলী রেলস্টেশনে ঢাকা ও রাজশাহীগামী আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ না থাকায় যাত্রীদের দূরবর্তী স্টেশনে গিয়ে ট্রেনে উঠতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে। বিশেষ করে জীবননগর ও আশপাশের এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের এ সমস্যার সমাধানে উথলী রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু করা প্রয়োজন।
স্মারকলিপিতে উথলী রেলস্টেশনে ঢাকাগামী বেনাপোল এক্সপ্রেস এবং রাজশাহীগামী কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। স্থানীয়দের মতে, এসব ট্রেনের স্টপেজ চালু হলে জীবননগরসহ আশপাশের এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত আরও সহজ হবে এবং এ অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, উথলী রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু করা হলে স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণ হবে। এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
স্মারকলিপির অনুলিপি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (পশ্চিম) পাকশী, চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক এবং জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর প্রেসক্লাবের সভাপতি ফয়সাল মাহাতাব মানিক, উথলী প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, উথলী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন জাহিদ, চুয়াডাঙ্গা জেলা তালিমুল কোরআন বিভাগের সভাপতি মাওলানা মহিউদ্দিন, ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আরিফুল ইসলাম, সেক্রেটারি হাসানুজ্জামান, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান, উথলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম ঝন্টু, উথলী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরমান আলীসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে উথলী রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালুর বিষয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে।