শাহজামাল,জীবননগর অফিস:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাদক, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে গণসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ সভায় শিক্ষার্থী,শিক্ষক,অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নাহার। জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া সুলতানা এ্যানির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম,জীবননগর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন এবং উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফিরোজুল ইসলাম।
।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উথলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আকরাম হোসেন, উথলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লুৎফর রহমান, উথলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নওশাদ আলী এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. মোশারফ হোসেন। এ ছাড়া জীবননগর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. জিল্লুর রহমান, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন,মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে শিক্ষক ও অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধু-বান্ধব এবং পড়াশোনার বাইরের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন ও দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন,মাদক, ইভটিজিং ও বাল্য বিবাহের মতো সামাজিক অপরাধ কোন ভাবেই প্রশ্রয় দেয়া যাবে না। এসব অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান,প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণকে সমন্বিত ভাবে কাজ করতে হবে। বাল্য বিবাহ ও মাদক চোরাচালানসহ সামাজিক অপরাধের বিষয়ে প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য তিনি উপস্থিতদের প্রতি আহ্বান জানান।
সভায় বক্তারা বলেন, কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে মাদকাসক্তি প্রতিরোধে পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সামাজিক ভাবে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে ইভটিজিং প্রতিরোধ এবং বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতন করতে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রাখা,শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিংমুক্ত সমাজ গঠনে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। সভায় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষকদের সক্রিয় অংশ গ্রহণের মধ্য দিয়ে মাদক,ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।