নিয়োগ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ শৈলকুপার আদিল উদ্দিন কলেজের শিক্ষক ভূপেন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে

আবু সাইদ শওকত আলী,ঝিনাইদহ:-

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মালিথিয়া আদিল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক বিশ্বাস ভূপেন্দ্রনাথের ১৯৯৪ সালের নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তাঁর একাডেমিক যোগ্যতা ও নিয়োগের বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে ঘটনার তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয়রা ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বাস ভূপেন্দ্রনাথ ১৯৯৪ সালের ৭ ডিসেম্বর মালিথিয়া আদিল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি শাখায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। নিয়োগপত্র অনুযায়ী তিনি অর্থনীতি, বাণিজ্য ও ভূগোল বিষয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।

তবে অভিযোগ রয়েছে, ভূপেন্দ্রনাথের একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড ফিন্যান্স বিষয়ে। ফিন্যান্স বিষয়ে পড়াশোনা করা একজন প্রার্থী কীভাবে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও ভূগোল—তিনটি বিষয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিধি অনুযায়ী যে বিষয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে, ওই বিষয়ে প্রয়োজনীয় একাডেমিক যোগ্যতা থাকা আবশ্যক।

এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, ফিন্যান্স বিষয়ে তাঁর নিয়োগ বা বিষয় অনুমোদনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়নি। অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও ভূগোল বিষয়ে শিক্ষকতা করে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও সরকারি নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

কলেজটির সাবেক অধ্যক্ষ রোকনুজ্জামান বলেন, “ভূপেন্দ্রনাথ ফিন্যান্সের ছাত্র হলেও তাঁর নিয়োগ ছিল অর্থনীতি, বাণিজ্য ও ভূগোল বিষয়ে। তবে নিয়োগটি শর্তসাপেক্ষে হয়েছিল।”

বর্তমানে কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উত্তম কুমার কুন্ডু। তিনি বলেন, “আমি সদ্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি। তাঁর নিয়োগের বিষয়ে আমার বিস্তারিত জানা নেই। কাগজপত্র দেখে পরে বিস্তারিত বলতে পারব।”

স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, ভূপেন্দ্রনাথ দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভারতে বসবাস করেন এবং চাকরির সুবাদে মালিথিয়া গ্রামে ভাড়া বাসায় থাকেন। তাঁর ভারতে যাতায়াত নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা রয়েছে। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে কোনো প্রামাণ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর শিক্ষক বিশ্বাস ভূপেন্দ্রনাথ স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের দাবি, ১৯৯৪ সালের নিয়োগের সময়কার বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগপত্র, একাডেমিক সনদ, বিষয় অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি নথিপত্র যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা নিরূপণ করা হোক। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *