জীবননগরে জাল নোট প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কর্মশালা

জীবননগর অফিস:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে জাল নোটের প্রচলন ও ব্যবহার প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বেলা ১১টায় জীবননগর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ ব্যাংক, রাজশাহীর উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় জাল নোট শনাক্তকরণ, বাজারে জাল নোটের বিস্তার রোধ এবং আর্থিক লেনদেনে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি আসল ও জাল নোটের বৈশিষ্ট্য এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা চিহ্ন সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের বাস্তবভিত্তিক ধারণা দেওয়া হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি। সোনালী ব্যাংক পিএলসির চুয়াডাঙ্গা শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক, রাজশাহীর উপপরিচালক মো. আসলাম হোসেন ও মো. আব্দুস সোবহান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জীবননগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিয়ার রহমান, সোনালী ব্যাংক পিএলসির জীবননগর শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. আব্দুল হান্নান, প্রিন্সিপাল অফিসার আরিফ বিল্লাহ, সিনিয়র অফিসার আশরাফুল ইসলাম, জীবননগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. রিপন হোসেন, নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, সাংবাদিক ফেরদৌস ওয়াহিদ, ওমর ফারুকসহ ব্যাংক কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও স্থানীয় সুধীজন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, জাল নোটের প্রচলন শুধু ব্যক্তি পর্যায়ে আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়; এটি সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক ও আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। জাল নোটের বিস্তার ঘটলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে কাগুজে মুদ্রার প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি বৈধ লেনদেনও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বক্তারা আরও বলেন, লেনদেনের সময় বিশেষ করে বড় অঙ্কের নগদ টাকা গ্রহণের ক্ষেত্রে নোট ভালোভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। সন্দেহজনক নোট পাওয়া গেলে তা অন্যের কাছে চালিয়ে না দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
কর্মশালায় ভিডিও প্রজেক্টরের মাধ্যমে বিভিন্ন মূল্যমানের বাংলাদেশি নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করা হয়। নোটের কাগজ, জলছাপ, নিরাপত্তা সুতা, দৃশ্যমান ও স্পর্শযোগ্য বৈশিষ্ট্যসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা চিহ্নের মাধ্যমে আসল ও জাল নোটের পার্থক্য কীভাবে শনাক্ত করা যায়, তা তুলে ধরা হয়।
এ ছাড়া জাল নোট তৈরি, বহন ও লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে বলে কর্মশালায় জানানো হয়। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে ব্যাংক, ব্যবসায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন বক্তারা।
সোনালী ব্যাংক পিএলসি, জীবননগর শাখার সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের জাল নোট সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আর্থিক লেনদেনে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *