জাসদ কার্যালয়ে যুবদল নেতাকর্মীদের  অবস্থান গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিপন্থী: জিএম কাদের

বিশেষ প্রতিবেদক:

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘিরে যুবদলের নেতাকর্মীদের অবস্থান এবং পরবর্তী পুলিশি অভিযানের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের)।
সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে জিএম কাদের বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয় ঘেরাও করা, রাজনৈতিক সভা বা কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টি করা এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো কোনো কর্মকাণ্ড গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ঘটনার বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলিস্তান-জিপিও এলাকায় জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে একটি সভা চলাকালে যুবদলের নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান নেন। যুবদলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, কার্যালয়ের ভেতরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক চলছে। এ অভিযোগের পর পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়।
পুলিশের অভিযানের পর জাসদ কার্যালয় থেকে কয়েক শ ব্যক্তিকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ডিএমপি জানায়, ২৭৮ জনকে হেফাজতে নেওয়ার পর পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হয় এবং যাচাই শেষে ২৪৯ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে; বাকি ২৯ জনের পরিচয় যাচাই চলছিল।
জাসদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, কার্যালয়ে পূর্বনির্ধারিত কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভা চলছিল এবং সভা আয়োজন ও নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা ওই আবেদন সম্পর্কে অবগত নন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। ফলে সভাটির অনুমোদন ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।
বিবৃতিতে জিএম কাদের বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের বৈধ কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি বা রাজনৈতিক কার্যালয় ঘিরে অবস্থান নেওয়ার ঘটনা গণতান্ত্রিক চর্চার প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত। একই সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে আইন অনুযায়ী তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
তিনি বলেন, জাসদ কার্যালয়ের ঘটনাটি নিয়ে কোনো পক্ষের অভিযোগ বা বক্তব্যকে এককভাবে চূড়ান্ত ধরে নেওয়ার পরিবর্তে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
জিএম কাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরপরাধ কেউ যাতে হয়রানি বা অন্যায়ভাবে আটক না হন, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এদিকে, জাসদ কার্যালয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলা, মব সৃষ্টি ও আটকের অভিযোগ নিয়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি রাজনৈতিক দলের পূর্বনির্ধারিত সভা চলাকালে কার্যালয়ে হামলা ও সভা ভণ্ডুলের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে ঘটনার তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *