জীবননগরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মতবিনিময় সভা

জীবননগর  অফিস:
দেশব্যাপী ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে জীবননগর পৌরসভা এ সভার আয়োজন করে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩টায় জীবননগর পৌরসভার সভাকক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, স্বাস্থ্য বিভাগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। এতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয়, এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত ও ধ্বংস এবং সমন্বিতভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভায় জানানো হয়, সরকার ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় নিজ নিজ এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আলোচনায় বাড়ির আঙিনা, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রাম, ফুলের টব, ডাবের খোসা ও পুরোনো টায়ারসহ যেসব স্থানে পানি জমে থাকতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থলে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু প্রশাসন বা স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জীবননগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) ইফতেখার রহমান। সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির হোসেন মোড়ল, সমবায় কর্মকর্তা নুর আলম, জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (অপারেশন) অনুপ দাস ও স্যানিটারি ইন্সপেক্টর অজয় কুমার।

এ ছাড়া শিক্ষক কাজী সালমা লাইজু, মঞ্জুয়ারা খাতুন, সাবেক মহিলা কাউন্সিলর মাহফুজা পারভীন বিউটি, শিক্ষক ইউসুফ আলী, আফতাব উদ্দিন, কাজী বাবলুর রহমানসহ ডেঙ্গু প্রতিরোধ কমিটির বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটির সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ধ্বংস, জনসচেতনতামূলক প্রচার বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের সিদ্ধান্তের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *