জীবননগর আন্দুলবাড়ীয়ায় তালাকের পরও মাদকাসক্ত সাবেক স্বামীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ স্ত্রীকে হত্যার হুমকি

লোহার রড-হাসুয়া নিয়ে বাড়িতে ঘুরাঘুরির অভিযোগ আতঙ্কে নারী ও ৪ বছরের শিশু

জীবননগর অফিস:

তালাক দেয়ার পরও সাবেক স্বামীর হুমকি ও হামলার আশঙ্কায় আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়ার এক নারী ও তাঁর চার বছর বয়সী শিশুসন্তান। মাদকাসক্ত ও বেপরোয়া আচরনের সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন,হত্যার হুমকি,বাড়িঘরে হামলা ও ক্ষতিসাধনের চেষ্টার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ওই নারী।

অভিযোগকারী গৃহবধু থাদিজা খাতুন(২২)উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া হারদাপাড়া হতদরিদ্র হাসমত আলীর মেয়ে। অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম(২৬)একই ইউনিয়নের আন্দুলবাড়ীয়া কাওরাপাড়ার মৃত শাহাদ আলীর ছেলে।

থাদিজা খাতুনের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,প্রায় পাঁচ বছর আগে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।তাদের সংসারে সাফিন(৪)নামে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি,বিয়ের কয়েক বছর পর থেকেই তার স্বামী মাদকাসক্ত ও জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েন। এ কারণে পারিবারিক জীবনে অশান্তি দেখা দেয় এবং তাকে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগে থাদিজা খাতুন বলেন,স্বামীকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে তিনি নিজে এবং তাঁর আত্মীয়-স্বজন বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও কোনো ফল পাননি। একই সঙ্গে স্বামী তাঁর ও শিশুসন্তানের ভরণপোষণ ও পারিবারিক দায়িত্বও যথাযথভাবে পালন করতেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরিস্থিতি ক্রমেই অসহনীয় হয়ে ওঠায় গত ১৬ জুলাই ২০২৬ তিনি স্বেচ্ছায় স্বামীকে তালাক দেন বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি তাঁর ছোট সন্তানকে নিয়ে দরিদ্র বাবা-মায়ের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন।

কিন্তু তালাকের পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন থাদিজা। তাঁর দাবি, তালাকের বিষয়টি মেনে না নিয়ে সাবেক স্বামী বিভিন্ন সময় তার বাবা-মায়ের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে ও পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এবং নানা ধরনের হুমকি দিচ্ছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে,অভিযুক্ত ব্যক্তি কখনও লোহার রড,আবার কখনও হাসুয়া হাতে নিয়ে ওই বাড়িতে যান। তাকে ও তাঁর শিশুসন্তানকে তুলে নিয়ে গিয়ে জবাই করা,বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া,তাদের দখলে মাদকদ্রব্য রেখে প্রশাসনের মাধ্যমে ধরিয়ে দেওয়া এবং রাস্তায় পেলে হত্যা করে লাশ গুম করার মতো হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন থাদিজা খাতুন।

অভিযোগের সবচেয়ে সাম্প্রতিক ঘটনা ঘটে গত ৬ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে। থাদিজা খাতুনের দাবি,ওই রাতে সাইফুল ইসলাম তার বাবা-মায়ের বাড়িতে গিয়ে ফের ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। একপর্যায়ে তিনি হাসুয়া দিয়ে বাড়ির টিনে কোপ দেন। এতে টিনে ক্ষত সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

খাদিজার আরও অভিযোগ, ওই সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর শরীরেও হাসুয়া দিয়ে কোপ দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তিনি ও তার শিশুসন্তান চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়েন।

অভিযোগকারী বলেন,সাবেক স্বামীর এমন আচরণে আমি ও আমার ছোট সন্তান নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। কখন কী ঘটে,সেই আতঙ্কে দিন কাটছে। আমি প্রশাসনের কাছে আমার ও আমার সন্তানের নিরাপত্তা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।

খাদিজা খাতুনের অভিযোগ,অভিযুক্ত ব্যক্তি মাদকাসক্ত ও বেপরোয়া হওয়ায় তার হুমকিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। যেকোনো সময় তিনি বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগকারীর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তাঁদের দাবি,বিরোধের বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া না হলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।

স্থানীয়দের দাবি সাইফুল ইসলাম আগে ভাল ছেলে হিসাবে এলাকায় পরিচিত থাকরেও বর্তমানে এলাকায় সে চরম মাদকাসক্ত এবং বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।সে প্রায়ই হাতে দা,হাসুয়া নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামের বক্তব্য তাৎক্ষণিক ভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তার অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি।

জীবননগর থানার অফিসা ইনচার্জ সোলায়মান শেখ বলেন,ঘটনার ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ  পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা  হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *