জীবননগরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে বিজিবির যশোর রিজিয়ন কমান্ডার যশোর রিজিয়নের ২২২ পূজামণ্ডপে মোতায়েন থাকবে প্রায় ২ হাজার বিজিবি সদস্য

জীবননগর অফিস:
শারদীয় দুর্গোৎসব-২০২৬ নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সিংনগর পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন, যশোরের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান, পিবিজিএম, বিপিএম (সেবা), পিএসসি। এ সময় তিনি পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে ফলের ডালা ও নগদ অর্থসহায়তা তুলে দেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রফিকুল আলমকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পূজামণ্ডপটি পরিদর্শন করেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও বিজিবির মোতায়েন পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান জানান, শারদীয় দুর্গোৎসব-২০২৬ উপলক্ষে যশোর রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ২২২টি পূজামণ্ডপে প্রায় ২ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হবে। আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত এসব সদস্য সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। এ লক্ষ্যে বিজিবি সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে বিজিবি কাজ করবে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সদস্যরা সতর্ক ও তৎপর থাকবেন। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপ ও এলাকাগুলোতে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রিজিয়ন কমান্ডার আরও জানান, পূজার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, মূল্যায়ন ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ১০ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত যশোর রিজিয়নের বিজিবি ইউনিটগুলো তাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় রেকি সম্পন্ন করেছে। এ ছাড়া দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ৫৮টি বেইজ ক্যাম্প থেকে পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
তিনি বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন, যশোরের আওতাধীন সীমান্তবর্তী ছয়টি জেলার ৩৭টি উপজেলার সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত এলাকা এবং খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা শহরের পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি পূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান বলেন, বাংলাদেশ ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। এই ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা নিরাপদ, আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে।
এ সময় তিনি পূজামণ্ডপ কর্তৃপক্ষ, সর্বস্তরের নাগরিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *