ঝিনাইদহে অজ্ঞান পার্টির দুই সদস্য গ্রেপ্তার

আবু সাইদ শওকত আলী,ঝিনাইদহ:

ঝিনাইদহে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও কোটচাঁদপুর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে আন্তঃবিভাগীয় অজ্ঞান পার্টির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গাজীপুরের টঙ্গী ও মাগুরা সদর এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—খুলনার ফুলতলা উপজেলার আলকা দামোদর গ্রামের আবুল কালাম হাওলাদারের ছেলে দুলাল হাওলাদার (৪০), ওরফে ‘মলম দুলাল’ এবং মাগুরা সদর উপজেলার বোগিয়া গ্রামের হাসেম খানের ছেলে মো. তিলক খান (৪৪)।

পুলিশ জানায়, গত ২৯ জুন ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর থানাধীন এলাঙ্গী বাজার এলাকায় অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের খপ্পরে পড়েন এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। তিনি যশোর থেকে শাপলা পরিবহনের একটি বাসে করে কোটচাঁদপুরে ফিরছিলেন। পথে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি তাকে ডাবের পানি পান করতে দিলে কিছুক্ষণ পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তার স্বামী বাসে গিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান।

এ সময় অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা ওই শিক্ষিকার পরিহিত স্বর্ণের চেইন, আংটি ও খাড়ু নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ৩০ জুন কোটচাঁদপুর থানায় মামলা নম্বর-১৯, দণ্ডবিধির ৩২৮/৩৭৯/৩৪ ধারায় মামলা করা হয়।

ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার জেলা সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও কোটচাঁদপুর থানা পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তকারী দল তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ শুরু করে।

পুলিশের দাবি, তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরের টঙ্গী থানা এলাকায় এবং মাগুরা সদর থানা এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দুলাল হাওলাদার ও মো. তিলক খানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় নেশাজাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করে মানুষকে অচেতন করে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান বলেন, “অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে নেশাজাতীয় দ্রব্য প্রয়োগ করে অচেতন করে সর্বস্ব লুটে নেয়। এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে জেলা পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। তদন্তের মাধ্যমে গ্রেপ্তার দুজনের সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।”পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *