সুইপার থেকে বাংলা চলচিত্রে ভিলেন জাম্বু

অপু দাস,ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:-

সুইপার থেকে বাংলা চলচ্চিত্রের  ভয়ংকর ভিলেন হয়েছিলেন  জাম্বু। তার আসল নাম  বাবুল গোমেজ ওরফে সুখ লাল বাবু।
১৯৪৪ সালে দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর রেলওয়ে জংশন  সংলগ্ন মেথর পট্টিতে জন্ম গ্রহন করেন এই ভয়ংকর ভিলেন  জাম্বু।
ছোট বেলা কাটে  সেই পার্বতীপুর রেলওয়ে জংশনে। তারপর তিনি মোটা মুটি বড় হইলে চলে যান ঢাকা

শহরে – পুরান ঢাকার মেথর পট্টিতে উঠেন। সেখান থেকে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্হানে বাথরুম পরিস্কার করে বেড়াতেন।
একদিন কাজের সন্ধানে তেজগাঁও তেজতুরী বাজারে অবস্হিত স্যুটিং স্পট ” বারী স্টুডিও ” ‘র পাশে কাজ করতে ছিলেন।
ঐ সময় ওখানে স্যুটিং করতে ছিলেন এক পরিচালক আর এই ছবির কাহিনী, সংলাপ, চিত্রনাট্য লিখেছিলেন

– দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, তখন জাম্বু স্যুটিং দেখতে ছিলেন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পাবলিকের সঙ্গে। ঐ সময়

দেলোয়ার জাহান ঝন্টু তাকে ডাক দেন এবং বলেন স্যুটিং করবে তখন  জাম্বু বলেন হ্যাঁ করবো।

ব্যাস, ঐ মুহুর্তে তাকে স্যুটিং ‘র চরিত্রে লাগিয়ে দেন। তারপর বলেন – আগামী কাল এফ ডি সিতে এসো –

এফ ডি সির গেইটে আমার নাম বলবে, তাহলে ছেড়ে দিবে, তখন তুমি বলবে আমি পরিচালক সমিতি যাবো – তাহলে সবাই দেখে দিবে। বলেই জাম্বুকে বিদায় দেন।
পরের দিন ঠিক ঐ ভাবেই জাম্বু এফ ডি সিতে গিয়ে পরিচারক সমিতিতে ঝন্টু ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করেন। তারপর দেলোয়ার জাহান ঝন্টু তাকে বিখ্যাত

পরিচালক এফ কবির চৌধুরীর কাছে নিয়ে যান এফ ডিসির ভেতরেই,তারপর পরিচালক এফ কবির চৌধুরী

জাম্বুকে দেখে পছন্দ করেন এবং তার পরের ছবিতে কাজ দেন মেইন ভিলেনের সহকারী হিসেবে।

তবে পরিচালক এফ কবির চৌধুরী বলেন, তোমার মাথার চুল ফেলে দিতে হবে। ন্যাড়া করতে হবে।

জাম্বু রাজী হয়ে যান, তখন দেলোয়ার জাহান ঝন্টু তার নাম দেন ” জাম্বু “। আসলে তখনও দেলোয়ার জাহান ঝন্টু পরিচালক হন নাই, তখন তিনি

কাহিনীকার হিসেবে বিখ্যাত ছিলেন। তাই পরিচালক এফ কবির চৌধুরীর ছবিতে তাকে অভিনয়ের সুযোগ করে দেন। আর এই ছবির কাহিনীকারও দেলোয়ার জাহান ঝন্টু।
ব্যাস, বাবুর গোমেজ ওরফে সুখলাল বাবু হয়ে গেলেন চরচ্চিত্রের ভয়ংকর ভিলেন। এই যে শুরু করলেন একটানা প্রায় ৫০০ ছবির বেশি ছবিতে অভিনয় করেন জাম্বু।
তারপর – দেলোয়ার জাহান ঝন্টু যখন ” বন্ধুক ” ছবির মাধ্যমে পরিচালক হলেন সেই ছবিতেও তাকে ভিলেন হিসেবে কাজ দেন  মানে ঝন্টু সাহেবের সব  ছবিতে তাকে  অভিনয় দিতেন।
ব্যাক্তি জীবনে  তিনি দুই ছেলে দুই মেয়ের বাবা।
২০০৪ সালের ৩ রা মে ঢাকাতে মৃত্যু বরন করেন।

         

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *