আবু সাইদ শওকত আলী,ঝিনাইদহ:
তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন খেলোয়াড় তৈরি এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত রেখে সুস্থ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে দেশের প্রথম ধাপের ১০টি ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে একটি স্পোর্টস ভিলেজ ঝিনাইদহে নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
শনিবার (৮ আগস্ট) ঝিনাইদহ জেলা শহরের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঝিনাইদহের বর্তমান স্টেডিয়ামটিকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। গ্যালারিসহ স্টেডিয়ামে পূর্ণাঙ্গ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি জেলার মানুষের জন্য সাঁতার শেখা ও নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ তৈরিতে একটি মানসম্মত সুইমিংপুল নির্মাণেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪টি জেলাতেই স্পোর্টস ভিলেজ ও সুইমিংপুল নির্মাণ করা হবে। এর মূল লক্ষ্য শুধু পেশাদার খেলোয়াড় তৈরি করা নয়; ক্রীড়াচর্চার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও নানা সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রেখে একটি সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান সমাজ গড়ে তোলা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আইন বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান আসাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী সচিব রাশেদ খান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করে ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ। টুর্নামেন্টের আয়োজক জেলা পরিষদের প্রশাসক ও ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদকে চমৎকার আয়োজনের জন্য দুই মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী সচিব রাশেদ খান ধন্যবাদ জানান। উপস্থিত দর্শকরাও আয়োজকদের প্রশংসা করেন।
জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ বলেন, ঝিনাইদহে এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন অব্যাহত থাকবে। খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের সুস্থ বিনোদন ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ক্রীড়া সংগঠক, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও বিপুলসংখ্যক ফুটবলপ্রেমী দর্শক উপস্থিত ছিলেন। পরে আইন বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান আসাদ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী সচিব রাশেদ খান বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি তুলে দেন। এর মধ্য দিয়ে জাঁকজমকপূর্ণ জেলা পরিষদ গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।