আবু সাইদ শওকত আলী,ঝিনাইদহ:
প্রথমার্ধে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে যখন পরাজয়ের প্রহর গুনছিল স্বাগতিক দর্শকেরা, ঠিক তখনই দ্বিতীয়ার্ধে মাঠজুড়ে শুরু হলো এক মহাকাব্যিক লড়াই। টান টান উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচে কুষ্টিয়ার ওয়ান্ডার্স ক্লাবকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ‘ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে’র ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছে ঝিনাইদহ লাইফ ওয়ে ফুটবল ক্লাব।
শনিবার বিকেলে ঝিনাইদহের ঐতিহ্যবাহী বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়ামে মাসব্যাপী চলে ৮টি দলের এই জমকালো টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ ও সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
খেলার শুরুতেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে শক্ত অবস্থান নেয় কুষ্টিয়ার ওয়ান্ডার্স ক্লাব। আল আমিন ও জাস্টিনের চমৎকার দুটি গোলে প্রথমার্ধেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে জয়ের সুবাস পেতে শুরু করে তারা। তবে বিরতির পর খেলার প্রেক্ষাপট এক মুহূর্তে বদলে যায়। নতুন উদ্যমে মাঠে নেমে একের পর এক প্রাণপণ আক্রমণে কুষ্টিয়াকে স্তব্ধ করে দেয় ঝিনাইদহ লাইফ ওয়ে ফুটবল ক্লাব।
বিজয়ী দলের পক্ষে বিদেশি ফুটবলার ওয়েস্টিন, স্থানীয় তারকা রাকিব ও বিল্লাল একে একে তিন তিনটি দৃষ্টিনন্দন গোল করে দলকে নিয়ে যান জয়ের সুউচ্চ শিখরে। বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে পুরো বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়াম রূপ নেয় উৎসবের নগরীতে। গ্যালারি পেরিয়ে পুরো মাঠজুড়ে উপস্থিত হাজার হাজার দর্শকদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ও মুহুর্মুহু করতালি পুরো পরিবেশকে এক অবিস্মরণীয় রূপ দান করে। খেলা উপভোগ করতে স্টেডিয়ামের গ্যালারি কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। স্থান সংকুলান না হওয়ায় শত শত স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীকে মাঠের সীমানার ভেতরে বসেই খেলা দেখতে দেখা যায়।
ফাইনাল খেলা শেষে সন্ধ্যার দিকে বিজয়ী ও বিজিত দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন প্রধান অতিথি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক তার বক্তব্যে দেশের ক্রীড়াঙ্গন পুনর্গঠনে সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করতে সরকার ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ‘নতুন কুঁড়ি’র মতো উদ্যোগ ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং স্কুল-কলেজ পর্যায়ে নতুন নতুন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।”
বিগত রাজনৈতিক শাসন আমলের সমালোচনা করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “গত ১৭ বছরে দেশের ক্রীড়াতালিকাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তবে আমরা ক্রীড়াঙ্গনের হারিয়ে যাওয়া গৌরব ও ঐতিহ্য ফেরাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আগামী ৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের খেলাধুলায় এক অভূতপূর্ব নতুন বিপ্লব ঘটানো হবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, জেলা পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট এমএ মজিদ সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।