চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে নিয়মিত মাসিক পরিদর্শন, কারাবন্দিদের সার্বিক খোঁজখবর গ্রহণ এবং তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মমুখী প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আয়োজিত ‘ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স’ বিষয়ক দুই সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা পরিদর্শন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ২০২৬) বেলা ১২টা ৩০ মিনিটে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার এবং পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কারাগারের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। তারা কারাগারের সার্বিক পরিবেশ, বন্দিদের সুযোগ-সুবিধা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, খাবার ও আবাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি কারাবন্দিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনের বিষয়েও অবগত হন।
এ সময় বন্দিদের জন্য নির্ধারিত সুযোগ-সুবিধা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যসেবা ও খাবারের মান বজায় রাখা এবং কারাগারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
পরিদর্শনের অংশ হিসেবে কারাবন্দিদের দক্ষতা উন্নয়ন ও ভবিষ্যতে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে আয়োজিত ‘ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স’ বিষয়ক দুই সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার কার্যক্রমও পরিদর্শন করেন অতিথিরা। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী বন্দিদের সঙ্গে কথা বলে প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু, কার্যক্রম ও তাদের আগ্রহ সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসন, চুয়াডাঙ্গা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, চুয়াডাঙ্গার সার্বিক সহযোগিতায় চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগার এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কারাবন্দিদের হাতে-কলমে বৈদ্যুতিক স্থাপনা, সংযোগ, রক্ষণাবেক্ষণসহ সংশ্লিষ্ট কারিগরি বিষয়ে মৌলিক ও ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কারাগারে বন্দিদের শুধু নিরাপদ হেফাজতে রাখাই নয়, তাদের সংশোধন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সমাজে
পুনর্বাসনের উপযোগী করে গড়ে তোলাও আধুনিক কারা ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ লক্ষ্যেই কারাবন্দিদের বিভিন্ন কর্মমুখী ও কারিগরি প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে বক্তারা বলেন, কারাগারকে শুধু শাস্তি প্রদানের স্থান হিসেবে দেখলে হবে না; সংশোধন ও পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য। কারাবন্দিদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের আত্মবিশ্বাস তৈরি করা সম্ভব। কারামুক্তির পর অর্জিত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তারা বৈধ ও সম্মানজনকভাবে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পেতে পারেন। এর ফলে একদিকে যেমন তাদের পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে পরিবার ও সমাজের মূলধারায় ফিরে যাওয়ার পথও সহজ হবে।
তারা আরও বলেন, কারাবন্দিদের জন্য এ ধরনের কারিগরি প্রশিক্ষণ শুধু তাদের ব্যক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি তাদের সামাজিক ও
অর্থনৈতিক পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রশিক্ষণ শেষে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান কিংবা আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হলে কারামুক্ত ব্যক্তিরা সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবেন।
এ সময় প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষক ও কর্মকর্তারা অতিথিদের প্রশিক্ষণের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত করেন। প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া বন্দিরাও তাদের অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান সম্পর্কে অতিথিদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশিক্ষকবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
নিয়মিত কারাগার পরিদর্শনের পাশাপাশি বন্দিদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের এ উদ্যোগকে কারাবন্দিদের সংশোধন, পুনর্বাসন এবং সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার একটি বাস্তবমুখী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।