আবু সাইদ শওকত আলী ,বিশেষ প্রতিনিধি:-
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবারও তীব্র এন্টিভেনম সংকট দেখা দিয়েছে, যা সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের জীবনকে চরম
ঝুঁকিতে ঠেলে দিয়েছে। সরকারিভাবে সরবরাহ বন্ধ থাকার অজুহাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যেন দায়
এড়িয়ে যাচ্ছে, আর এর চরম মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিদিনই সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগী এই হাসপাতালে এলেও তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
প্রয়োজনীয় এন্টিভেনমের অভাবে তাদের হয় ঝিনাইদহ সদর নয়তো কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
কুষ্টিয়া দূরবর্তী হওয়ায় অনেক রোগী পথেই মারা যাচ্ছেন। স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে কারণ তাদের চোখের সামনেই চিকিৎসা না পেয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে।
হাসপাতালের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে মাত্র একটি এন্টিভেনম ইনজেকশন আছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।
এই সংকটের কারণে মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়লেও কর্তৃপক্ষের যেন কোনো মাথাব্যথা নেই।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: রাশেদ আল মামুন এই সংকটের কথা স্বীকার করলেও এর সমাধান দিতে পারেননি।
তিনি দায়সারা ভাবে জানিয়েছেন, “সরকারিভাবে আমাদের হাসপাতালে কোনো এন্টিভেনম সরবরাহ করা হচ্ছে না।” এই ধরনের উত্তর স্থানীয়দের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
প্রশ্ন উঠেছে, যদি সরকারিভাবে সরবরাহ না থাকে, তবে জনগণের জীবন বাঁচাতে বিকল্প ব্যবস্থা কেন নেওয়া হচ্ছে না? চিকিৎসকরা বলছেন,
সাপের কামড়ের পর দ্রুত এন্টিভেনম প্রয়োগ করা না গেলে রোগীর মৃত্যু নিশ্চিত। এই ইনজেকশন জীবন বাঁচানোর জন্য অপরিহার্য।
মানবিক আবেদন নয়, জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখন স্থানীয় বিত্তবানদের কাছে মানবিক সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছে।
কিন্তু এটি কোনো দীর্ঘস্থায়ী সমাধান নয়। জনগণের জীবন বাঁচানো সরকারের দায়িত্ব।
এই মুহূর্তে প্রয়োজন স্থানীয় বিত্তবানদের কাছে হাত পাতা নয়, বরং সরকারের উচ্চ পর্যায়ের জরুরি
হস্তক্ষেপ। শৈলকুপার মানুষ এখন সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে। তারা দাবি জানাচ্ছে, দ্রুত এই
হাসপাতালে এন্টিভেনম সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক, যাতে আর কোনো অমূল্য জীবন এভাবে ঝরে না যায়।
এই অবহেলা চলতে থাকলে শৈলকুপা হাসপাতাল তথা সরকারি স্বাস্থ্য সেবার ওপর মানুষের আস্থা চিরতরে হারিয়ে যাবে।